চলতি বছরের শুরুতেই অরিজিৎ সিংহের একটি ঘোষণায় চমকে গিয়েছিলেন অনুরাগীরা। প্লেব্যাক গান থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন তিনি। সিদ্ধান্তটি ছিল অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত। এর পরেই সমাজমাধ্যমে নেমে আসে বিষণ্ণতার ছায়া। কারণ, গত এক দশকে অরিজিৎ শুধু হিন্দি ছবির গানে কণ্ঠ দেননি, একটা গোটা প্রজন্মের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন।
অনেকের কাছেই অরিজিতের সেই ঘোষণা যেন একটি যুগের অবসান। তবে সঙ্গীত পরিচালক অমাল মালিকের মতে, অরিজিতের এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া নয়। বরং অনেক দিন ধরেই ছবির গানে আগ্রহ হারাচ্ছিলেন তিনি। অরিজিতের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন অমাল। আগামী ছবি ‘আওয়ারাপন ২’-তেও তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অমাল জানান, অরিজিতের সঙ্গে যাঁরা ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করেছেন, তাঁরা অবাক হননি অরিজিতের ঘোষণায়। অনেক আগেই তাঁর অরিজিতের এই অনাগ্রহ বুঝতে পেরেছিলেন। অমাল বলেন, “আমি মনে করি না কেউ ওকে কোনও ভাবে জোর করেছিল। সিদ্ধান্তটা ও নিজেই নিয়েছে। আমরা যারা ওর সঙ্গে কাজ করেছি, তারা দু’এক বছর আগেই বুঝতে পেরেছিলাম যে এই ধরনের ছবির গানে ওর আগ্রহ কমে গিয়েছে।”
আরও পড়ুন:
অমাল আরও জানান যে, হিন্দি ছবির গানের জগৎও বদলে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “এই ইন্ডাস্ট্রি এতটাই অর্থনির্ভর যে অনেকেই ভাবেন, যত টাকা লাগুক দাও, গান তৈরি করো, আর অরিজিৎকে দিয়ে গাওয়াও। কারণ কোনও গানে অরিজিৎ সিংহের কণ্ঠ থাকলে সেটি হিট হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, অন্তত মানুষের নজরে আসার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু পরে অরিজিৎও বুঝেছিল, আসল বিষয় হল গানটা কতটা ভাল, সেই দিকে নজর দেওয়া উচিত।”
অমাল আরও বলেন, “অরিজিতের কেরিয়ারের প্রথম তিন-চার বছর দেখুন। ওকে দিয়ে প্রায় যে কোনও গান গাওয়ানো যেত। শুধু ওর নামের জন্যই সেটা জনপ্রিয় হয়ে যেত। এখন আর বিষয়টা এমন নয়। অরিজিৎ হোক বা সোনু নিগম, কোনও গায়কের ক্ষেত্রেই এটা সত্যি নয়। গানটা নিজেই যদি ভাল না হয়, তা হলে জনপ্রিয় গায়কও সেটিকে খুব বেশি দিন টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। একটি গান জনপ্রিয় হয় গায়ক, সুরকার এবং গীতিকারের সম্মিলিত কাজ ও রসায়নে।”
প্রায় ৭০০ গান গাওয়ার পর ক্লান্তি আসতেই পারে বলে মনে করেন অমাল। তাঁর বক্তব্য, “বিভিন্ন ভাষায় প্রায় ৭০০টি গান গাওয়ার পর যে কোনও শিল্পীই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। অরিজিৎ সিংহের মতো শিল্পী এক প্রজন্মে এক বারই আসেন। কেরিয়ারের শীর্ষে পৌঁছে সেই জায়গা থেকে সরে আসার সাহস সকলের থাকে না।”