অযোধ্যায় রামমন্দির হওয়ার পরই সেখানে জমি-বাড়ি কেনার হিড়িক পড়ে যায়। বছর দেড়েক আগেই জানা যায়, রামমন্দির থেকে কিছুটা দূরে সরয়ূ নদীর তীরে একটি জমি কেনেন অমিতাভ বচ্চন। ‘দ্য হাউস অফ অভিনন্দন লোঢ়া’র মতো রিয়্যাল এস্টেট সংস্থার কাছ থেকে এই জমিটি কেনেন অমিতাভ। উল্লেখ্য, রামমন্দির গড়ে ওঠার পর থেকে সেখানে মোট পাঁচ বার সম্পত্তি কেনেন তিনি। তাঁকে ফোন করে কী বলেছিলেন অভিনেতা, সেটাই জানালেন অযোধ্যার সংশ্লিষ্ট নির্মাতা সংস্থার কর্তা অভিনন্দন লোঢ়া।
আরও পড়ুন:
গত দু’বছরে জমি-বাড়িতে একের পর এক বিনিয়োগ করেছে বচ্চন পরিবার। তবে রামমন্দিরের অদূরে এই জমিটি কেনার তাগিদ ছিল নাকি অমিতাভের। অভিনন্দন লোঢ়া জানান, এক দিন রাত ৩টের সময় বারকয়েক ফোন করেছিলেন অমিতাভ। অভিনন্দন সেই সময় ফোন তুলতে পারেননি। তবে তাঁকে ফোনে না পেয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে মেসেজ করে রাখেন অমিতাভ।
অভিনন্দনের কথায়, ‘‘আমি ওঁকে সঙ্গে সঙ্গে ফোন করি। উনি জানান, অযোধ্যায় একটা জমি কিনতে চান। বলেন, ‘আমি তো উত্তরপ্রদেশের ছেলে। তাই অযোধ্যায় একটা জমি কিনতে চাই।’ আমি ওঁকে বলি, ‘আপনার সঙ্গে টাকাপয়সার কথা কী বলি।’ তাও বললাম, ওখানে দাম পড়বে প্রায় ১৫ কোটি। পরের দিন সকলেই উনি পুরো টাকা পাঠিয়ে দেন।’’ তবে অমিতাভ সেখানে একটি জমি কিনেই ক্ষান্ত হননি। মোট পাঁচটি জমি কেনেন সেখানে।
অমিতাভ অযোধ্যায় প্রথমে ২৫ হাজার বর্গফুটের একটি জমি কিনেছিলেন, যেটি রামমন্দিরের খুবই কাছেই ‘সরযূ’ নামের আবাসন এলাকায়। সেখানে অভিনেতা বিনিয়োগ করেছেন প্রায় ১৪.৫০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি রামজন্মভূমি মন্দির উদ্বোধনের ঠিক আগে ৫.৫৪ কোটি টাকা দিয়ে ৫৩৭২ বর্গফুটের একটি জমি কিনেছিলেন তিনি। তার পর যে জমিটি কেনেন তার জন্য ৪০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। তার পর প্রায় ৩৫ কোটি খরচ করে ২.৬৭ একর জমি কেনেন।
রামমন্দির উদ্বোধনের সময় অমিতাভ নিজেই জানিয়েছিলেন, অযোধ্যা সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার পীঠস্থান হতে চলেছে। যদিও বাকি জীবনটা অযোধ্যায় কাটাবেন কি না, সে বিষয়ে কোনও ইঙ্গিত দেননি অমিতাভ।