একসময় হিন্দি ছবির অন্যতম জনপ্রিয় তারকা ছিলেন রাজেশ খন্না। বলিউডের ইতিহাসে তাঁকেই প্রথম ‘সুপারস্টার’ হিসাবে গণ্য করা হয়। তবে কেরিয়ারের শীর্ষে পৌঁছে যেমন বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, তেমনই তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল নানা বিতর্কও। এ বার প্রয়াত অভিনেতার সঙ্গে কাজ করার সময়ের এক অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার কথা জানালেন প্রবীণ অভিনেতা তেজ সপ্রূ। তাঁর দাবি, এক বার শুটিং চলাকালীন তাঁকে পিছন থেকে গালিগালাজ করেছিলেন রাজেশ। তবে পরদিনই নিজের আচরণের জন্য রাজেশ তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টাও করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তেজ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তেজ জানান, রাজেশ খন্নার মধ্যে তারকাসুলভ একটা অহঙ্কার ছিল। তবে একই সঙ্গে তাঁকে অত্যন্ত উদার মানুষ হিসাবেও দেখেছেন তেজ। অভিনেতার কথায়, “রাজেশ খন্নার মধ্যে অহঙ্কার ছিল। কেরিয়ারের শীর্ষে থাকলে এমনটা হয়। অনেক সময় আপনার থেকেও বেশি, আপনার আশপাশের মানুষগুলির মাথা ঘুরে যায়। এমনটা হয়। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর মতো উদার মানুষ আমি খুব কমই দেখেছি।”
এর পরেই সেই ঘটনার কথা জানান তেজ। কাশ্মীরে একটি ছবির শুটিং চলাকালীন ঘটনাটি ঘটেছিল বলে জানান তিনি। অভিনেতার কথায়, “একদিন আমরা একসঙ্গে কাজ করছিলাম। হঠাৎ পিছন থেকে কেউ আমাকে গালাগাল করছে শুনতে পেলাম। ঘুরে দেখি, কাকাজি (রাজেশ খন্না)।” ঠিক কী কারণে রাজেশ তাঁর উপর রেগে গিয়েছিলেন, তা বিস্তারিত জানাননি তেজ। তবে সেই সময়ে অভিনেতা ছবির এক নায়িকার সঙ্গে ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি তাঁকে অত্যন্ত কষ্ট দিয়েছিল। কারণ, রাজেশকে বরাবরই তিনি অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখতেন।
তেজ জানান, রাজেশের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক যোগাযোগেরও ইতিহাস ছিল। রাজেশের প্রথম ছবিতে তেজের বাবা ডি কে সপ্রূও কাজ করেছিলেন। তাই বর্ষীয়ান অভিনেতার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা আরও বেশি ছিল। তেজের কথায়, “আমি তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতাম। শুধু তাঁকে নয়, যাঁরা আমার অগ্রজ বা যাঁরা আমার বাবার সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের সকলকেই শ্রদ্ধা করি। তাঁরা বড় অভিনেতা হোন বা ছোট, তাঁরা বসার আগে আমি কখনও চেয়ারে বসি না। এতটা সম্মান করার পরেও কেন তিনি পিছন থেকে আমাকে গালাগাল করেছিলেন, জানি না। আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।”
পরের দিন বরফের মধ্যে শুটিং হওয়ার কথা ছিল। আগের দিনের ঘটনায় তেজ তখনও ক্ষুব্ধ। তাই রাজেশকে দেখেও ইচ্ছে করে অভিবাদন জানাননি তিনি। তবে শুটিং শেষ হতেই তাঁর কাছে এগিয়ে আসেন রাজেশ। তেজের দাবি, রাজেশ তাঁকে বলেন, “এই লম্বা ছেলে, কালকের কথা ভুলে যাও।” জবাবে তেজ বলেন, “স্যর, আপনি আমাকে কোনও কারণ ছাড়াই গালাগাল করলেন। আপনিই তো বলেছিলেন যে, আমরা মজা করছিলাম।”
এর পরে রাজেশ তাঁকে বিষয়টি ভুলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। নিজের হোটেলে আমন্ত্রণও জানান। তেজ জানান, তিনি অন্য একটি হোটেলে থাকলেও শুটিং শেষ করে রাজেশের সঙ্গে তাঁর হোটেলে যান। সেই রাতের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তেজ বলেন, “উনি আমাকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। আমরা সারারাত একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করলাম। উনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, তিনি যা বলেছিলেন, সেটা ভুল।”
আরও পড়ুন:
তেজের মতে, অভিনেতার অহঙ্কারও হয়তো তাঁর কেরিয়ারের পতনের ক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করেছিল। একই সময়ের দুই তারকা ধর্মেন্দ্র এবং জিতেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা টেনে তেজ বলেন, তাঁদের তারকাসুলভ আচরণের ধরন আলাদা ছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে টানা ১৫টি একক ব্লকবাস্টার ছবি দিয়ে নজির তৈরি করেছিলেন রাজেশ। তবে সত্তরের দশকের শেষ দিক থেকে তাঁর কেরিয়ারে দ্রুত পতন শুরু হয়। ‘মেহবুবা’, ‘অনুরোধ’, ‘বুন্দল বাজ়’-এর মতো একাধিক ছবি বক্সঅফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।