এক চিকিৎসক-পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হস্টেলে। গুজরাতের সুরতের সরকারি কলেজের ঘটনা। রবিবার ওই কলেজের হস্টেল থেকে ৩০ বছর বয়সি এক ওই পড়ুয়ার দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আত্মহত্যা করেছেন ওই যুবক। প্রশ্ন উঠছে, কেন তিনি আত্মঘাতী হলেন? তাঁর সহপাঠীদের একাংশের অভিযোগ, দিনের পর দিন র্যাগিং এবং হয়রানির শিকার হতেন ওই যুবক, যা নিয়ে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। ইতিমধ্যেই কলেজ কর্তৃপক্ষ র্যাগিং এবং হয়রানির অভিযোগে চার জন সিনিয়র চিকিৎসককে বরখাস্ত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, হর্ষ পাণ্ড্য নামে ওই পড়ুয়াকে রবিবার হস্টেলে নিজের ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি সুরত মেডিক্যাল কলেজে স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা করছিলেন। পাশাপাশি, গত ছ’মাস ধরে নিউ সিভিল হাসপাতালে অনুজীববিদ্যা বিভাগে রেসিডেন্ট চিকিৎসক হিসাবেও কর্মরত ছিলেন।
পরিবার জানিয়েছে, সম্প্রতি হর্ষের বাগ্দান হয়েছিল। তাঁর বাবা সুভাষ পাণ্ড্যও পেশায় চিকিৎসক। তিনি জানান, রবিবার সকালে হর্ষের এক বন্ধুর থেকে ফোন পান। সুভাষকে অবিলম্বে সুরতে আসতে বলা হয়। ফোন পেয়ে সুরত মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে মৃত্যুর খবর জানতে পারেন সুভাষ। তাঁর দাবি, পড়াশোনা নিয়ে কোনও সমস্যা ছিল না হর্ষের। তবে তিনি যে বিভাগে কাজ করতেন, সেই বিভাগে সিনিয়রদের সঙ্গে জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রায়ই সমস্যা লেগে থাকত বলে খবর পেতেন বলে জানান সুভাষ।
স্নাতকোত্তরের প্রথম বর্ষের ছাত্র হিসেবে নিউ সিভিল হাসপাতালে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল হর্ষকে। রবিবার ডিউটি ছিল তাঁর। কিন্তু সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ডিউটিতে না-আসায় এক সিনিয়র ফোন করেন হর্ষকে। কিন্তু ফোন বন্ধ ছিল। তার পরেই হস্টেলের অন্য এক রেসিডেন্ট চিকিৎসককে ফোন করে হর্ষের খোঁজ নিতে বলেন ওই সিনিয়র। ওই চিকিৎসক গিয়ে দেখেন, হর্ষের ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বার বার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। তার পরেই নিরাপত্তাকর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। দেখেন সিলিং থেকে ঝুলছে হর্ষের দেহ। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
আরও পড়ুন:
হর্ষের মৃত্যুর ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল পানসেরিয়া। তিনি জানান, এই ঘটনার সব দিক পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তদন্ত করা উচিত। ওই চিকিৎসক হস্টেল বা হাসপাতাল চত্বরে কোনও ভাবে র্যাগিংয়ের শিকার হতেন কি না, বা কোনও ব্যক্তির কারণে মানসিক বা শারীরিক হয়রানির শিকার হয়েছিলেন কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে যাতে কোনও ধরনের গাফিলতি না-হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন গুজরাতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, চার জন সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক ওই যুবককে হয়রানি করতেন। নিরালি ভাসাভে, অনুজ মহেশ্বরী, দীক্ষিত ঘেওয়ারিয়া এবং হিনা ভুটনকে ছ’মাসের জন্য সাসপেন্ড করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হস্টেল থেকেও তাঁদের চলে যেতে বলা হয়েছে।