ঘুষের বিনিময়ে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্টেড) এক সংস্থাকে পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগে এ বার গ্রেফতার হলেন ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) প্রাক্তন চেয়ারপার্সন এল খিয়াঙ্গতে। সোমবার সিআইডি তাঁকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, তিনি জেএসএসসি-র চেয়ারপার্সন থাকাকালীন অনিয়ম করেছেন।
ঝাড়খণ্ডে কালো তালিকাভুক্ত সংস্থা টিএসআর। সেই সংস্থার ‘ডেটা প্রসেসিং লিমিটেড’-কে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে আগেই বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ। এ বার ওই কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে নিজেদের হেফাজতে নিল তারা।
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে কয়েক দিন ধরেই উত্তাল ঝাড়খণ্ড। গত আট দিন ধরে পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে অনশন করছেন দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো। সোমবার বিক্ষোভকারীরা ‘বিধানসভা অভিযানের’ ডাক দিয়েছিলেন। সেই মতো সকাল থেকে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাঁচীতে। রাঁচীর পথে ব্যারিকেড টপকে প্রতিবাদীরা এগোনোর চেষ্টা করেন বিধানসভার দিকে। ভবন থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে আটকে দেওয়া হয় মিছিল। সেখানেই বসে পড়েন প্রতিবাদীরা। পরে আবার ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে থাকলে পুলিশ জলকামান ছোড়ে বলে অভিযোগ। শুধু তা-ই নয়, আন্দোলনকারীদের জমায়েত হটাতে লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে তা অগ্রাহ্য করেই এগোনোর চেষ্টা করেন প্রতিবাদীরা, ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সেই আবহেই জেপিএসসি-র প্রাক্তন চেয়ারপার্সনের গ্রেফতারির খবর প্রকাশ্যে এল।
বর্তমানে পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করছে ঝাড়খণ্ডের সিআইডি। সম্প্রতি ওই ঘটনায় ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের তিন আধিকারিক— অজিতা ভট্টাচার্য, জামাল আহমেদ এবং অনিমা হাঁসদাকে নোটিস পাঠিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। রবিবারই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যদিও বিতর্কের মধ্যে আগেই তাঁরা জেপিএসসি-র সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনায় বসছে হেমন্ত সোরেনের সরকার। রবিবারও বৈঠকে হয়েছিল দু’পক্ষের মধ্যে। যদিও শেষপর্যন্ত সেই বৈঠক ভেস্তে যায়। তার পরে আবার পড়ুয়াদের বৈঠকে বসার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত এবং রাজ্যপাল সন্তোষকুমার গাঙ্গোয়ার। ঝাড়খণ্ড সরকার বলছে, পড়ুয়াদের দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। ৯৮ শতাংশ দাবিই পূরণ করা হয়েছে। তিনটি পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। তবে সিবিআই তদন্ত তারা করাবে না। যদিও পড়ুয়ারা সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড়। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়েই নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করাতে হবে। সরকার জানিয়েছে, সিবিআই নয়, ইডি-তদন্তে রাজি আছে তারা। তার মধ্যেই সোমবার ‘বিধানসভা অভিযান’-এর ডাক দেন প্রতিবাদীরা। শুধু পড়ুয়ারা নন, সিবিআই তদন্তের দাবি তুলে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্তের বাসভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মরাণ্ডী, বিজেপি নেতা আদিত্য সাহু-সহ বিজেপি কর্মীরা। পুলিশ তাঁদের আটক করেছে।