শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সিজেপি আন্দোলন রুখতে বিশেষত লাটিয়ান দিল্লিকে মুড়ে দেওয়া হবে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে, আর তাতে ভোগান্তির একশেষ হবে সাধারণ মানুষের। গোটা সপ্তাহ জুড়ে দিল্লিবাসী নাকাল হয়েছেন। তবে আজ নিরাপত্তার নামে যা হল, তা অতীতের সমস্ত দুর্ভোগের রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
আজ রাস্তায় দেখা গেল গন্তব্যের থেকে মাত্র এক বা দু’কিলোমিটার দূরে দাঁড়িয়ে করুণ ভাবে পথ ভিক্ষা করছেন বয়স্ক মানুষ, স্কুটারে চড়া শিশু-সহ দম্পতি। পথ ভিক্ষা করছেন জগদ্দল পাথরের মতো ব্যারিকেডের প্রাচীরে দাঁড়িয়ে থাকা দিল্লি পুলিশের ছোট ছোট বাহিনীর কাছে। যন্তর মন্তর থেকে দশ, বিশ কিলোমিটার দূরে সম্পূর্ণ শান্ত এলাকাতেও যাওয়ার অনুমতি মিলছে না। তাঁদের বলে দেওয়া হচ্ছে অন্য কোনও রুটের সন্ধান, উজিয়ে গিয়ে দেখা যাচ্ছে সেখানেও হাল এক। এ ভাবে ঘুরতে ঘুরতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় হচ্ছে, যা আদতে পনেরো মিনিটের পথ।
রাতের ট্রেন বা বিমানের টিকিট, কিন্তু ঝুঁকি এড়াতে সাত সকালেই বেরিয়ে পড়েছেন মালপত্র নিয়ে— এমন মানুষ রাজধানীর রাস্তায় দলে দলে, তাই আলাদা উল্লেখের দাবি রাখে না। যা আলাদা উল্লেখের, জিপিএস মানচিত্র থেকে আজ বেমালুম উধাও হয়ে গিয়েছে রাস্তা, গলি, ফ্লাইওভার! অর্থাৎ ক্রমশই লাটিয়ান দিল্লির থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে জিপিএস। অফিস যাওয়ার সময় গাড়িতে নিজেরাই দেখেছি এই অবিশ্বাস্য দিগ্নির্দেশ। যমুনা ব্রিজ়ের গোড়াতেই ব্যারিকেড দিয়ে আটকে লন্ডভন্ড অবস্থা। অগত্যা সেখান থেকে অক্ষরধাম মন্দিরের পাশ দিয়ে যমুনা পেরোনোর সেতুতে পৌঁছনোর যানজট বুঝতে জিপিএস খুলে দেখা গেল, বিকল্প পথটি গন্তব্যের থেকে (রফি মার্গ যা যন্তর মন্তরের কাছেই) ক্রমশ দূরে ঠেলে দিচ্ছে আমাকে। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, দিল্লি পুলিশ ‘স্যাটেলাইট নেভিগেশন সফটওয়্যার’ বদলাতে না পারলেও রুটের ‘অ্যালগরিদম’ প্রভাবিত করতে পারে। যাতে যন্তর মন্তর থেকে যত সম্ভব দূরে রাখা যায় গাড়ির যাত্রীদের।