নিজেদের দাবিতেই অনড় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তাদের মতে, নিট-আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব এফআইআর প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্র। সেই প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূরণ করতে হবে সরকারকে। যদি এফআইআর বাতিল না-হয়, তবে নতুন করে বিক্ষোভ, অবস্থান শুরু হবে। সোমবারও একই সুরে অবস্থানে বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল সিজেপি।
নিট-বিক্ষোভ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ‘হতাশ’ সিজেপি। তাদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী। সরকার আশ্বাস দিয়েছিল, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরগুলি খারিজ করবে। কোনও পড়ুয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা কঠোর পদক্ষেপ করা হবে না। সেই আশ্বাস পাওয়ার পরেই যন্তর মন্তর থেকে অবস্থান তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিজেপি-র আশঙ্কা, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে হাতিয়ার করে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র ফৌজদারি মামলা চালিয়ে যেতে পারে।
সিজেপি-র আরও বক্তব্য, সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত কেন্দ্রের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছিল। সেখানেও একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় সরকারপক্ষের আইনজীবীরা কেন সেই আলোচনা এবং তার ফলাফল আদালতকে জানাননি, প্রশ্ন ‘ককরোচ’-দের। সুপ্রিম কোর্টের অন্তবর্তিকালীন নির্দেশকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে সিজেপি। তাদের যুক্তি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা কেন্দ্র আদালতকে জানায়নি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর আবার এক বার কেন্দ্রকে ‘প্রতিশ্রুতি’র কথা স্মরণ করিয়ে ‘ককরোচ’ দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘‘পড়ুয়ারা যদি ক্রমাগত পুলিশের অত্যাচার বা নিপীড়নের শিকার হতে থাকেন, তা হলে আমরা আবার রাস্তায় নামব। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে কেন্দ্রকে জবাব দেবে সিজেপি। সরকারকে অবশ্যই পড়ুয়াদের লক্ষ্যবস্তু করা বা তাঁদের অযথা হয়রান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’’ সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতার মতে, সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে এফআইআর করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে বলেনি। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা প্রত্যাহার করার ক্ষমতা এখনও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হাতে রয়েছে।
সিজেপি-র হুঁশিয়ারি, কেন্দ্র যদি কথা না-রাখে তবে পুনরায় দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করা ছাড়া আর কোনও ‘উপায় নেই’। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘ভারতের যুবসমাজ সরল বিশ্বাসে কেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতায় এসেছিল। সেই সরল বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে ভারতের রাজপথ আবারও তরুণদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে।’’
দীপকে-র মতো একই দাবি করেছেন সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারছেন না বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট এখন বলছে, যাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে, তা প্রত্যাহার করা হবে না। সরকারের সঙ্গে আমাদের যে আলোচনা হয়েছিল, তার সঙ্গে এর কোনও মিল নেই। সুপ্রিম কোর্ট যে শর্ত দিয়েছে, তা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’’ তাঁরা এ-ও জানিয়েছেন, তাঁদের দাবির পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ কার্যকর করা হোক। তবে তাঁদের দাবি সর্বপ্রথম পূরণ করতে হবে। উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে সৌরভেরা জানান, সরকারকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতিমতো লিখিত চুক্তি করতে হবে। পাশাপাশি এ-ও জানান, সরকার যদি প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে আবার পথে নামবেন তাঁরা।
আরও পড়ুন:
কী নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের?
সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার জানিয়েছে, অপরাধের ইতিহাস নেই, এমন নাবালক বিক্ষোভকারীদের আটক বা গ্রেফতার করে রাখা যাবে না। নিট-বিক্ষোভে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছিল বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কেন করা হবে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেই তদন্ত হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কারা দায়ী, তা নির্দিষ্ট না হলে তদন্তের কোনও অর্থ হয় না। তাই যাঁরাই সীমা লঙ্ঘন করে থাকুন না কেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
আক্রমণের শিকার বিক্ষোভকারীরা!
শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা এবং সিজেপি-র অবস্থান প্রত্যাহারের পরেও এখনও অচলাবস্থা পুরোপুরি কাটেনি। সেই আবহে নিট আন্দোলনে যোগ দেওয়া আন্দোলনকারীদের ‘চিহ্নিত করে’ মারধরের অভিযোগ উঠছে। সেই সব অভিযোগের সমর্থনে সমাজমাধ্যমে একাধিক ভিডিয়োও পোস্ট হচ্ছে (যদিও ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। আন্দোলন সমর্থকেরা এ ধরনের হামলাকে ‘প্রতিবাদের শাস্তি’ হিসাবে বর্ণনা করছেন। অভিযোগ, বিজেপি-ঘনিষ্ঠেরাই বেছে বেছে হামলা করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, যাঁরা এই ভাবে হামলা চালাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হোক।