পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) নির্বাচনকে ‘সম্পূর্ণ প্রহসন’ বলে কটাক্ষ করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের অভিযোগ, ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের উপর পাকিস্তান সরকার যে দমনপীড়ন করছে, তা আড়াল করতেই তারা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে হাতিয়ার করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সবালের দাবি, তথাকথিত এই নির্বাচন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বেষ্টিত ছিল। তবে সেটা কখনওই ওই অঞ্চলের গণবিক্ষোভ এবং নির্বিচারে সাধারণ মানুষের খুনকে আড়াল করতে পারবে না।
রণধীরের কথায়, ‘‘পাক অধিকৃত কাশ্মীরে যে স্থানীয় নির্বাচন হচ্ছে, সেটা পুরোপুরি প্রহসন। পাকিস্তানের বাহিনী যে ভাবে নির্বিচারে সাধারণ মানুষকে মারছে সেই বাস্তবকে আড়াল করা সম্ভব নয়।’’ তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে পিওকে-তে দমনপীড়ন তীব্র আকার নিয়েছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে রণধীরের দাবি, ‘‘চলতি বছরের জুন থেকে পাক বাহিনীর দমন অভিযানের কারণে অন্তত ৯০ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।’’
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের অভিযোগ, পাকিস্তান তার কর্মকাণ্ডকে ‘বৈধতা’ দিতে নির্বাচনকে ঢাল করার চেষ্টা করছে। তাঁর কথায়, ‘‘সাধারণ মানুষের অসন্তোষের জবাবে গুলি চালানো হয়েছে। পাক বাহিনী ভয় দেখাচ্ছে।’’ গোটা বিষয়টিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রণধীর। তিনি মনে করেন, ‘‘মানবাধিকার নিয়ে পাকিস্তান যা বলে, তার আড়ালে কী চলছে, তা গোটা বিশ্বের দেখা উচিত।’’
আরও পড়ুন:
নিজেদের অধিকারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে অধিকৃত কাশ্মীরের নাগরিক সমাজ। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে উত্তপ্ত পাক-অধিকৃত কাশ্মীর। অর্থনৈতিক সঙ্কট, সাধারণ নাগরিকদের প্রতি বঞ্চনা, একের পর এক বিধিনিষেধ চাপানোর জেরে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল। তার উপরে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতা এই বিক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এরই মধ্যে ভোট শুরু হয়েছে অধিকৃত কাশ্মীরের। প্রসঙ্গত, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় ৪৫টি আসনের নির্বাচন ২৭ জুলাই থেকে ১০ অগস্ট পর্যন্ত তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৭ জুলাই প্রথম দফায় ১৩টি আসনে ভোট হয়েছিল। রবিবার ছিল দ্বিতীয় পর্বের ভোটগ্রহণ। গত সপ্তাহে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জন প্রতিবাদী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। রবিবারের ভোটেও বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটেছে।