স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আত্মঘাতী হলেন উত্তরপ্রদেশের মেরঠের বিজেপি নেতার পুত্র। মৃতের নাম প্রবালকুমার গুপ্ত। তিনি বিষ খান বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় প্রবালের। মেরঠের কঙ্কেরওয়াড়া থানা এলাকার ঘটনা। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাবা রাজীব গুপ্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন।
গাজ়িয়াবাদে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন প্রবাল। ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর ঋষিনগরের তরুণী স্নেহা গুপ্তের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল প্রবালের। আত্মঘাতী হওয়ার আগে একটি ভিডিয়ো রেকর্ড করেন বিজেপি নেতার পুত্র। তাঁর মৃত্যুর জন্য স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দায়ী করেছেন। প্রবালের অভিযোগ, স্ত্রী এবং শ্বশুর-শাশুড়ি লাগাতার মানসিক নির্যাতন করছিলেন। শুধু তিনি নন, তাঁর গোটা পরিবারকে মানসিক ভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। বিজেপি নেতার পুত্রের আরও অভিযোগ, তাঁর মাকেও মারধর করেন স্ত্রী।
৩১ অক্টোবর দু’পক্ষকে থানায় ডেকে বিষয়টি মিটমাট করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু প্রবালের অভিযোগ, সেখানেও তাঁকে অপদস্থ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগও করা হয়েছে। ১ নভেম্বর প্রবালের দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাচক্রে, তাঁর প্রথম বিবাহবার্ষিকীর এক দিন আগে। এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা রাজীব গুপ্ত বলেন, ‘‘আজকের দিনে ছেলের বিয়ে দিয়েছিলাম। আর এক বছর পর সেই একই দিনে ছেলের মরদেহ নিয়ে যেতে হচ্ছে। একজন বাবার কাছে এক থেকে আর কী দুর্ভাগ্যের বিষয় হতে পারে।’’
প্রবালের মায়ের অভিযোগ, পুত্রবধূ স্নেহা সংসারের কোনও কাজ করতেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলে ব্যস্ত থাকতেন। শুধু তা-ই নয়, আলাদা হতে ছেলের উপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন। অন্য দিকে, মৃত্যুর আগে প্রবাল অভিযোগ তুলে গিয়েছেন যে, সম্পত্তি, বাড়িঘর তাঁর নামে করে দিতে চাপ সৃষ্টি করছিলেন স্ত্রী স্নেহা। বিজেপি নেতার পুত্রের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।