অবসরপ্রাপ্ত আইএএস রাকেশ অগ্রবাল হত্যাকাণ্ডের ‘মূল’ অভিযুক্ত বরুণ কুমারকে উত্তরপ্রদেশের আগরা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতকে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। দাবি, সেই সময় পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় অভিযুক্তের। দাবি, পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা করেন তিনি। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। অভিযুক্তের পায়ে গুলি লাগে। তিনি রাস্তায় পড়ে যেতেই ধরে ফেলা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, আহত অবস্থায় অভিযুক্তকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৫টা থেকে ৫টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বরুণ কুমার আইএএস অগ্রবালের বাড়িতে কেয়ারটেকারের কাজ করতেন। ১ অক্টোবর সকালে ভোপালের সুরজনগর এলাকায় বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত আমলার দেহ উদ্ধার হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে অগ্রবালকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়। পাশের ঘরে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। সকালে উঠে তিনি স্বামীর দেহ দেখতে পান। তার পরই পুলিশে খবর দেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ দেখে, অগ্রবাল যে ঘরে থাকতেন, সেই ঘরের জিনিস সব ওলটপালট হয়ে রয়েছে। আলমারি খোলা। তদন্তকারীদের সন্দেহ, খুনের পর প্রমাণ লোপাটে ঘরে আগুন লাগানোর পরিকল্পনা করেছিলেন অভিযুক্ত। রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপলাইন খোলা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। আমলার দেহ উদ্ধারের পর থেকে কেয়ারটেকারের হদিস মিলছিল না। আর এখান থেকেই সন্দেহ বাড়ে পুলিশের। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালানো হয় মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়র-সহ বেশ কিছু জায়গায়। এ ছাড়াও উত্তরপ্রদেশের মথুরা এবং বৃন্দাবনেও তল্লাশি চালানো হয়। পঞ্জাব এবং অন্য কয়েকটি রাজ্যেও তল্লাশিতে যায় মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। অবশেষে উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার করা হয় বরুণকে।