বেসরকারি সংস্থার জন্য মহাকাশ গবেষণার দরজা ছ’বছর আগেই খুলে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। তা হলে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর কী ভবিতব্য? এই সংস্থা কি আর গবেষণা চালাবে? মহাকাশে যান পাঠাবে? কর্মীদেরই বা কী পরিণতি হবে? উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনকে চিঠি দিয়েছে কর্মীদের ন’টি সংগঠন। মহাকাশ গবেষণার বেসরকারিকরণ নিয়ে সরকারি নীতি কী, তা-ও জানতে চেয়েছে তারা।
গত ৪ সেপ্টেম্বর ইসরোর চেয়ারম্যান তথা ডিপার্টমেন্ট অফ স্পেস (ডিওএস)-এর সচিব নারায়ণনকে চিঠি দেয় কর্মীদের সংগঠনগুলি। চিঠিটির বিষয় সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। সূত্রের খবর, সেখানে কর্মীরা জানতে চেয়েছেন, মহাকাশ গবেষণার বেসরকারিকরণ নিয়ে সরকারের নীতি ঠিক কী? ভবিষ্যতে কি আর কর্মী নিয়োগ করবে সংস্থা? যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁদেরই বা কী হবে? প্রসঙ্গত, ইসরো থেকে বহু কর্মী চাকরি ছেড়েছেন। গত ১২ বছরে সংখ্যাটা ৭০০-র আশপাশে। সেই চাকরি ছাড়ার কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ বার ইসরোর কর্মীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন।
ইসরোর চেয়ারম্যানকে যারা চিঠি দিয়েছে, সেই তালিকায় রয়েছে ইসরো স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন, এসএইচএআর এমপ্লয়িস অ্যাসোসিয়েশন, আইস্যাক এমপ্লয়িস অ্যাসোসিয়েশন, ইসরো স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন-এলপিএসসির মতো ন’টি সংগঠন।
কিন্তু কেন এই চিঠি? সূত্রের খবর, চিঠি লেখার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক এক কর্মসূচিতে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার (ইন-স্পেস)-এর চেয়ারম্যান পবনকুমার গোয়েঙ্কার একটি মন্তব্য। তিনি এক কর্মসূচিতে বলেন, ‘‘ক্রমে ইসরো আর কোনও উৎক্ষেপণ যান তৈরি করবে না। সেগুলি তৈরি করবে বেসরকারি ক্ষেত্র বা পিএসইউ।’’ ইতিমধ্যে বেসরকারি সংস্থা স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (এসএসএলভি) তৈরি করছে। পবনের কথায়, ‘‘বেসরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে প্রযুক্তি হস্তান্তর করবে ইসরো। এর উপর ভিত্তি করে তৈরি হবে উৎক্ষেপণ যান ও অতি সাধারণ কৃত্রিম উপগ্রহ। সেই পরিবর্তন শুরু হয়েছে স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল দিয়ে। নিলাম করে এর প্রযুক্তি ও উৎপাদনের স্বত্ব রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (হ্যাল) হাতে তুলে দিয়েছে তারা।’’ ক্রমে বেসরকারি সংস্থাগুলিও পিএসএলভি তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, পবনের দাবি, এর পরবর্তী ধাপ আরও আকর্ষণীয় হতে চলেছে। তাতে পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (পিএসএলভি) এবং লঞ্চ ভেহিকল মার্ক-৩ (এলভিএম-৩)-এর প্রযুক্তি এবং উৎপাদন স্বত্ব ছেড়ে দেবে ইসরো।
আরও পড়ুন:
ইন-স্পেসের চেয়ারম্যান পবনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই একাধিক বেসরকারি সংস্থাকে ১২০ ধরনের প্রযুক্তি হস্তান্তর করেছে ইসরো। সূত্রের খবর, সেই কথাও উল্লেখ করেছে ইসরোর কর্মী সংগঠনগুলি। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘‘ওই সংক্রান্ত বিবৃতি ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু মহাকাশ বিভাগের তরফে এই নিয়ে তাদের কর্মীদের সঙ্গে কোনও কথাই বলা হয়নি। তাদের এই সংক্রান্ত নীতি, আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ভবিষ্যতের কর্মী নিয়োগের বিষয়ে জানানো হয়নি।’’
সংগঠনগুলি এ-ও জানিয়েছে, যে ভাবে ইসরো উৎক্ষেপণ যন্ত্র, উপগ্রহ তৈরি থেকে সরে যাচ্ছে, তাতে কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের মনে অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়েছে, এই উৎক্ষেপণ যান, উপগ্রহ তৈরি আদতে সংস্থার দক্ষতা, কৌশলগত ক্ষমতা প্রকাশ করে, যা ক্রমে বন্ধ করা হচ্ছে। তা হলে সংস্থার কী ভবিষ্যৎ, তা নিয়েই কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে খবর।