E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

মহিলা বিল কি আদৌ আসবে এখন, জল্পনা

সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় সংখ্যা না থাকায় গোড়া থেকেই বিরোধীদের সমর্থনের প্রত্যাশী ছিল শাসক শিবির।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ০৭:১৯

—প্রতীকী চিত্র।

মহিলা সংরক্ষণ বিলে সংশোধনী আনতে গত কাল তোড়জোড় শুরু করেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। সমর্থনের প্রত্যাশায় কথা শুরু হয়েছিল বিরোধী পক্ষের ছোট দলগুলির সঙ্গে। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই সরকারের সেই উদ্যোগে কার্যত ভাটার টান। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি বিলটিকে পেশ করার পরিবর্তে ঠান্ডা ঘরেই পাঠাতে চাইছেন মোদী সরকার!

সংবিধান সংশোধনী ওই বিল পাশ করাতে সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় সংখ্যা না থাকায় গোড়া থেকেই বিরোধীদের সমর্থনের প্রত্যাশী ছিল শাসক শিবির। বিরোধীদের মতে, সেই সমর্থন পাশে নেই বুঝেই সরকার পিছু হটার ইঙ্গিত দিয়েছে। উপরন্তু সরকারকে চাপে রাখতে ওই বিলটি নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে আগামিকাল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলটি পাশ না হলে চলতি অধিবেশনে তার দিনের আলো দেখা কঠিন। জল্পনা চলছে যে, মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল শেষ পর্যন্ত না এলে কেবল সিএপিএফ বিল নিয়ে আলোচনা করেই চলতি সপ্তাহে শেষ হয়ে যেতে পারে সংসদের অধিবেশন। আজ সিএপিএফ বিলটি রাজ্যসভায় আসার কথা থাকলেও সেখানে বিলটি আনেনি সরকার।

আজ সকালে তৃণমূল ব্যতীত বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে বৈঠকে বসেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। ওই বৈঠকে মহিলা বিল নিয়ে আলোচনা করতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি তোলা হয়। প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে সর্বদলীয় বৈঠকের আগে বিলটির বিষয়বস্তু কী, তা বিরোধী দলগুলিকে জানানোর পরামর্শ দেন খড়্গে। ওই চিঠিতেও স্বাক্ষর করেনি তৃণমল। রাজনীতিকদের মতে, পাঁচ রাজ্যের ভোটের আগে মহিলা স্বশক্তিকরণের বার্তা দিতেই তড়িঘড়ি করে ওই বিল আনতে চাইছিল বিজেপি। কিন্তু কংগ্রেস–সহ একাধিক বিরোধী দল পাঁচ রাজ্যের ভোট (২৯ এপ্রিল) হয়ে গেলে বা ভোটের ফলাফল (৪ মে) প্রকাশিত হওয়ার পরে সংসদে সংক্ষিপ্ত অধিবেশন করে বিলটি পাশ করানোর পক্ষপাতী। সে কথা জানিয়েও দেওয়া হয়েছে সরকারকে। এক বার পাঁচ রাজ্যে ভোট হয়ে গেলে ওই বিল পাশ করানোর প্রশ্নে সরকারের আদৌ কোনও উৎসাহ থাকবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বিরোধী শিবিরে।

লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করতে আড়াই বছর আগে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ বিল সংসদে পাশ করে মোদী সরকার। আইনে বলা হয়, নতুন করে জনগণনা (২০২৭) ও তার ভিত্তিতে হওয়া লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের পরেই মহিলাদের জন্য আলাদা করে কেন্দ্র সংরক্ষিত হবে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সরকারের আনা নতুন সংশোধনীতে ঠিক হয়, ২০১১ সালে জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভা আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস করা হবে। এই পুনর্বিন্যাসের ফলে লোকসভার আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ৮১৬টি-তে। যার মধ্যে ৩৩ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২৭২টির কাছাকাছি আসন সংরক্ষিত থাকবে মহিলাদের জন্য।

কেন পনেরো বছর আগেকার জনসংখ্যার ভিত্তিতে মহিলাদের আসন সংরক্ষিত করা হচ্ছে? সরকার জানিয়েছে, ২০২৭ সালের জনগণনায় জাতভিত্তিক পরিসংখ্যান থাকতে চলেছে। বর্তমান সংরক্ষণের সূত্র মেনে মহিলাদের ২৭২টি আসনের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যায় তফসিলি জাতি ও জনজাতির জন্য আসন সংরক্ষিত হবে। যদি ২০২৭ সালের জনগণনার ভিত্তিতে মহিলা আসন সংরক্ষিত করা হয়, তা হলে তফসিলি জাতি ও জনজাতিদের নিয়মমাফিক সংরক্ষণের পরে ওবিসি সমাজ তাঁদের জন্য আলাদা করে আসন সংরক্ষণের দাবি তুলতে পারে বলে আশঙ্কা। অর্থাৎ ‘কোটার মধ্যে কোটা’র দাবি ওঠার সম্ভাবনা। তাতে সমস্যা আরও ঘোরালো হবে। ২০১১ সালের জনগণনাতে জাতভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ হয়নি। তাই সেটিকেই ভিত্তিবর্ষ ধরার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Women Reservation Bill Bill

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy