বর্ষাকাল মানেই ভাজাভুজি খাওয়ার মরসুম। সন্ধে হলেই চায়ের সঙ্গে মুখরোচক ‘টা’ না হলে ঠিক চলে না। তবে সব সময়ে বাইরে থেকে কিনে না খেয়ে বাড়িতেই তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে। বাড়ির সকলে একসঙ্গে বসে চা, পকোড়া খাওয়াই আলাদাই মজা। তবে অনেকেই মনে করেন ডুবো তেলে ভাজলেই বুঝি ভাজাভুজি মুচমুচে হয়, বিষয়টি কিন্তু এত সহজ নয়! তেলের তাপমাত্রা কেমন, বাইরের আবরণে কী ব্যবহার করছেন, কতটা জল ব্যবহার করছেন— এই সব ছোটখাটো বিষয়ের উপরেও কিন্তু ফিশফ্রাই, কাটলেট বা পকোড়া মুচমুচে হবে কি না, তা নির্ভর করে।
কম তেলে কী ভাবে মুচমুচে করবেন ভাজাভুজি?
১) অল্প আর্দ্রতাও মুচমুচে ভাব একেবারে নষ্ট করে দিতে পারে। ধরুন আপনি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ভাজছেন। আলুতে অল্প জল থাকলেই কিন্তু সেগুলি মোটেও মুচমুচে হবে না। তাই আলুগুলিতে তেলে ফেলার আগে কোনও কাপড়ের উপর রেখে সেগুলি ভাল করে শুকিয়ে নিতে হবে।
২) বেশি তেল নয়, বরং তেলের সঠিক তাপমাত্রা থাকলে তবেই ভাজাভুজিতে মুচমুচে ভাব আসবে। খুব বেশি তাপমাত্রায় ভাজলে বাইরের অংশ বাদামি হয়ে গেলেও ভিতরটা কাঁচা থেকে যায়, আবার তাপমাত্রা কম হলেও মুশকিল! ভাজাভুজির জন্য ১৭৫ থেকে ১৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তেল রাখলে ভাল হয়। প্রয়োজনে একটা কুকিং থার্মোমিটার কিনে নিতে পারেন। অল্প জিনিস বারে বারে ভাজুন। একসঙ্গে অনেকটা জিনিস ভাজতে দিয়ে দিলে মুচমুচে ভাব আসবে না।
৩) এক বার নয়, দু’বার ভাজুন। প্রথম ভাজার ক্ষেত্রে উপকরণগুলি ভাল ভাবে রান্না করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। আর দ্বিতীয়বারে গ্যাসের আঁচ বাড়িয়ে বাইরের কোটিংটা মুচমুচে করে নিতে হবে।
৪) ফিশ ফ্রাই হোক বা প্রণ টেম্পুরা, ব্যাটার তৈরির জন্য ঠান্ডা জল বা সোডা ব্যবহার করতে হবে। এই টোটকায় অনেক বেশি কুড়মুড়ে ভাব আসবে।
৫) ভাজাভুজি ভাজার পর অনেকেই সেগুলিকে কাগজের থালার উপর বা টিস্যু পেপারের উপর রেখে দেন। এতে কিন্তু ভাজাভুজি মিইয়ে যায়। বদলে একটি ওয়্যার র্যাক বা জালির উপর রেখে দিলে অতিরিক্ত তেলও ঝরে যাবে, আর মুচমুচেও থাকবে।