প্রেক্ষাগৃহে প্রবেশ করলেই যেন মন ভাল হয়ে যায়। আলো-আঁধারি পরিবেশ। ছিমছাম সজ্জা। আরামদায়ক সোফা। নতুন নতুন সিনেমার পোস্টার। পপকর্ন বা সুইটকর্নের সঙ্গে মাখনের গন্ধ। কিন্তু সিনেমা শেষে বের হওয়ার পথটি বড় সাধারণ। সাদামাটা সিঁড়ি নীচে নেমে গিয়েছে। সিনেমা হলে প্রবেশস্থলটি যদি এত সুন্দর হয়, বেরোনোর পথটি সাদামাঠা কেন?
মুম্বইয়ের বাসিন্দা, মার্কেটিং বা বিপণন সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত, দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রাজ দাভোলকার এক সাক্ষাৎকারে বলছেন, এর সঙ্গে একদিকে যেমন ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি যুক্ত তেমনই রয়েছে ভিড় পরিচালনা করা এবং নিরাপত্তার বিষয়ও।
বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য
সিনেমাহলে প্রবেশের জায়গাটি আকর্ষণীয় করে তোলার মূল কারণ হল দর্শক যাতে সেখানে বসে থাকতে বিরক্ত বোধ না করেন। পাশেই থাকে খাবারের কাউন্টার। এমন আরামদায়ক পরিবেশে নাকে পপকর্ন, মাখনের গন্ধ এলে, খাওয়ার ইচ্ছা দ্বিগুণ হয়ে যায়। বেশি দাম দিয়েও দর্শক পপকর্ন বা পানীয় কিনতে উৎসাহিত হন।
প্রথম দর্শনে ভালো লাগার মনস্তত্ত্বকে এখানে কাজে লাগানো হয়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, কোনও জায়গার ভাল লাগলে তা নিয়ে ইতিবাচক ধারণা হয়। সিনেমা দেখতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা যাতে মধুর হয়, সেই চেষ্টাই থাকে সিনেমা হল মালিকদের। সুন্দর প্রবেশদ্বার, আরামদায়ক পরিবেশে দর্শকমনকে বিশ্বাস করতে সাহায্য করে, ভিতরের পরিবেশটাও একই রকম ভাল হবে।
দ্রুত ভিড় সামলানো ও নিরাপত্তা
সিনেমা শেষ হওয়ার পর হল কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য থাকে দ্রুত হলটি খালি করা, যাতে পরবর্তী শো-এর জন্য সময়মতো প্রস্তুতি নেওয়া যায়। বেরোনোর রাস্তার নকশায় সৌন্দর্যের চেয়ে নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। খেয়াল করলে দেখা যাবে, সিঁড়ি দিয়ে নামার সময়ে বিভিন্ন তলায় জরুরি ভিত্তিতে প্রস্থানের দরজা করা থাকে। সেগুলি সবসময়ে খোলা না থাকলেও, প্রয়োজনে খুলে দেওয়া যেতে পারে।