দীপাবলির উৎসবে দুয়ার সাজে রঙ্গোলিতে। সংস্কৃত শব্দ ‘রঙ্গবল্লি’ থেকে রঙ্গোলি কথাটি এসেছে। শব্দটিতে রয়েছে ‘রং’ এবং ‘আবলি’-র কথা, যার অর্থাৎ রঙের সারি। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে রং, চালের গুঁড়ো দিয়ে আলপনার শৈলীকেই রঙ্গোলি বলা হয়। তা শুরু থেকে বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গ না হলেও, গত কয়েক বছরে ছবিটি বদলেছে। অবাঙালিদের পাশাপাশি এখন বাঙালিরাও রঙ্গোলি দেন। মনে করা হয়, বাড়ির প্রবেশদ্বারে রঙ্গোলি আঁকা শুভ। তা নিয়ে অনেক লোককথাও প্রচলিত রয়েছে।
সময়ের সঙ্গে ব্যস্ততা বেড়েছে। বহু পরিবারেই মহিলারা কখনও সংসারের চাপে বা কখনও চাকরি সামলে রঙ্গোলি দিতে পারেন না। তা ছাড়া সুন্দর রঙ্গোলি দেওয়াটা শিল্প, তার জন্যও অভ্যাসের প্রয়োজন। এ জন্য আঁকতে পারা জরুরি। তার পর রং দিয়ে আঁকাটি ভরাট করতে হয়। এত ঝক্কি এড়িয়ে রঙ্গোলি দিতে হলে কিনে ফেলুন বিশেষ গালিচা। সিঁড়ি থেকে প্রবেশদ্বার, ঘরের কোণ কিংবা টানা বারান্দা— যে কোনও স্থানেই মানানসই হবে, এমন রকমারি আকারের, নানা উপকরণের গালিচা মিলছে বাজারে, যা দেখতে অবিকল রঙ্গোলির মতোই। দূর থেকে দেখলে বোঝার উপায় থাকবে না, সেটি হাতে আঁকা নয়।
রঙ্গোলি-গালিচা কেন যুগোপযোগী
· রঙ্গোলি দেওয়া সময়সাপেক্ষ। এ জন্য শৈল্পিক গুণ থাকাও আবশ্যক। কিন্তু গালিচা একলহমায় পেতে ফেলা যায়। সেই গালিচার আশপাশে প্রদীপ সাজালে, কেউ চট করে ধরতেই পারবে না, জিনিসটি আঁকা নয়।
· রঙ্গোলি দিতে যে কৃত্রিম রং ব্যবহার হয়, তাতে অনেকের অ্যালার্জি হতে পারে। বিশেষত হাঁপানি থাকলে, এই রং নাকে গেলে ক্ষতিকর। বাড়িতে শিশু থাকলে, মুহূর্তে নকশা নষ্টও করে দিতে পারে। গালিচা পাতলে কোনও সমস্যাই নেই।
· রঙ্গোলি রঙে অনেক সময় শৌখিন মেঝে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে, ছোপ ধরে যেতে পারে। গালিচা সেই দিক দিয়েও সুরক্ষিত।
কত রকম রঙ্গোলি-গালিচা মেলে?
রকমারি আকৃতির
রঙ্গোলি না গালিচা বোঝা দায়! ছবি:সংগৃহীত।
গালিচা মানেই চৌকো বা গোল নয়। রঙ্গোলি-গালিচা বিভিন্ন আকারের হয়। প্রদীপ, ময়ূর, পদ্ম-সহ রঙ্গোলির জনপ্রিয় নকশার আকারে তা পাওয়া যায়। মূল প্রবেশদ্বার জুড়ে যেমন রঙ্গোলি দেওয়া হয়, ঠিক তেমন আকৃতির নকশাদার গালিচাও মেলে।
কোণের নকশা
ঘরের কোণের অংশ সাজানোর জন্য এরকম গালিচা কিনতে পারেন। ছবি:সংগৃহীত।
বাড়ির কোণে রঙ্গোলি দেওয়ার চল রয়েছে। ঘরের কোণে সুন্দর ভাবে মানিয়ে যাবে, তৈরি হয়েছে তেমন গালিচাও। রং যেমন কোথাও গাঢ় এবং হালকা হয়, গালিচার নকশাতেও সূক্ষ্ম খুঁটিনাটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছে কোনও কোনও সংস্থা।
বাতিদান
কোনও কোনও রঙ্গোলি-গালিচায় থাকে প্রদীপ রাখার ব্যবস্থাও। ছবি:সংগৃহীত।
শক্ত ফাইবার বা অ্যাক্রিলিক দিয়ে ছোট ছোট টুকরোতেও রঙ্গোলি-গালিচা বাজারে মিলছে। এগুলি মেঝের উপর পাজলের মতো জোড়া লাগিয়ে বড় রঙ্গোলি তৈরি করা যায়। কোনও কোনও রঙ্গোলিতে বাতি রাখার জায়গাও থাকছে, যাতে আলো জ্বলে উঠতে সৌন্দর্য বাড়ে।
সিঁড়ির রঙ্গোলি
সিঁড়ি, বারান্দা সজাানোর মতো রকমারি রঙ্গোলি-গালিচা রয়েছে বাজারে। ছবি:সংগৃহীত।
সিঁড়িতে অনেকে রঙ্গোলি দেন। বারান্দাতেও লম্বা করে রঙ্গোলি দেওয়ার চল রয়েছে। সেই সব খুঁটিনাটি মাথায় রেথেই তৈরি হয়েছে গালিচা। সিঁড়ি থেকে বারান্দা, বসার ঘরের লম্বা অংশ সাজিয়ে তোলার জন্য চেনের মতো রঙ্গোলি-গালিচা মিলছে।
উলের কাজ
একনজরে বোঝা দায় রঙ্গোলি না গালিচা! ছবি:সংগৃহীত।
উল দিয়ে বুনে নানা আকৃতির রঙ্গোলি-গালিচা তৈরি হচ্ছে। কোনওটি আকারে বড়, কোনওটি ছোট। সেই ছোট ছোট অংশ সাজিয়েও নকশা করা যাবে মেঝেতে।