শীতের বাগানের অন্যতম জনপ্রিয় ফুল গাঁদা। কমলা, হলুদ, লালচে— রকমারি গাঁদা ফুটি থাকলে বাগানের রূপ যেন খোলতাই হয়। ছাদ, বারান্দা বা কিংবা বাড়ির আলোকজ্জ্বল স্থলে সহজেই এই গাছ হয়। কিন্তু বড় আকারের গাছ ভরা ফুল পেতে গেলে যত্নের কৌশল জানা জরুরি। গাঁদা গাছেরও নানা প্রজাতি আছে।চিনে গাঁদা যেমন ছোট, তেমনই রয়েছে টেনিস বল মারিগোল্ড। এই ধরনের ফুলগুলি একটু বড় হয়। দীর্ঘদিন ধরে গাঁদা চাষ করছেন যাঁরা তাঁরা জানাচ্ছেন, এই গাছের যত্নের উপায়।
সূর্যালোক
গাঁদা গাছের জন্য অন্তত ৬ ঘণ্টা সূর্যালোক প্রয়োজন। তাই বাড়ির যে স্থানে গাছ রাখা হোক, খেয়াল রাখতে হবে যেন সরাসরি রোদ লাগে গাছে। ঘরোয়া ভাবে গাঁদাফুল ফোটাতে হলে ভাল জাতের চারা কেনাই ভাল। কেনার সময় পাতা এবং কাণ্ড খুঁটিয়ে দেখে নিন। ভাল নার্সারি থেকে চারা কিনলে ঠকে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
আরও পড়ুন:
টবের মাপ
গাঁদা গাছের শিকড় ভাল ভাবে ছড়ানোর জন্য অন্তত ৮ থেকে ১০ ইঞ্চির টব (মাটির টব হলে সবচেয়ে ভাল) বেছে নিন। টবের নীচে যেন নিশ্চিত ভাবে ছিদ্র থাকে। ছিদ্রের উপর খোলামকুচি বা ভাঙা ইটের টুকরো দিয়ে তার উপর এক স্তর বালি দিন, যাতে অতিরিক্ত জল সহজে বেরিয়ে যেতে পারে। গাঁদা গাছের গোড়ায় জল জমলে ক্ষতি অনিবার্য।
আদর্শ মাটি তৈরি
গাঁদা গাছের জন্য মাটি তৈরিতে ৫০ শতাংশ সাধারণ বাগানের মাটির সঙ্গে ৩০ শতাংশ গোবর সার অথবা ভার্মিকম্পোস্ট মেশান।১০ শতাংশ কোকোপিট যোগ করুন। ১০ শতাংশ নিম খোল ও এক চামচ হাড়ের গুঁড়ো মিশিয়ে, অন্তত ৩–৪ দিন রোদে রেখে তারপর টবে ভরুন।
কাটছাঁট
চারা বসানোর ১৫–২০ দিন পর যখন গাছটি ৫-৬ ইঞ্চি বড় হবে, তখন গাছের ডগাটি কেটে দিন। এতে গাছ লম্বা কম হবে। তবে চারপাশ থেকে প্রচুর নতুন ডালপালা ছাড়বে এবং অনেক বেশি ফুল আসবে।
জল দেওয়ার নিয়ম
টবের উপরের মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই জল দিন। অতিরিক্ত জল দিলে শিকড় পচে গিয়ে কুঁড়ি ঝরে যেতে পারে। গাছে নয়, সবসময় গোড়ার মাটিতে জল ঢালুন।
সার প্রয়োগ
চারা লাগানোর ২০ দিন পর থেকে প্রতি ১০–১২ দিন অন্তর পাতলা করে ভেজানো সর্ষের খোলের জল দিন (১ লিটার খোল ভেজানো জলে আরও ৪–৫ লিটার সাধারণ জল মিশিয়ে অত্যন্ত পাতলা করে দিতে হবে)। কুঁড়ি আসার লক্ষণ দেখা দিলে টবের ধার বরাবর আধ চামচ পটাশ বা কলার খোসা ভেজানো তরল সার দিতে পারেন। এতে ফুলের আকার ভাল হবে।
পোকা দমন
পাতা কোঁকড়ানো বা সাদা মাছি আটকাতে প্রতি ১৫ দিনে একবার সকালে নিম তেল (১ লিটার জলে কয়েক ফোঁটা তরল সাবান মিশিয়ে) স্প্রে করুন। শুকিয়ে যাওয়া ফুল বা হলুদ পাতা নিয়মিত কাঁচি দিয়ে ছেঁটে ফেললে গাছ দীর্ঘ দিন তরতাজা থাকে।