E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

অশোকনগরে আইএসএফ প্রার্থী নিয়ে দ্বিধায় বামেরা

অনেক দিন ধরেই অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে জোরদার রাজনৈতিক দর কষাকষি চলছিল সিপিএম এবং আইএসএফের মধ্যে।

সীমান্ত মৈত্র  

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

আইএসএফ অধিকাংশ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। অশোকনগরে প্রার্থী দিয়েছে তারা। এ দিকে, এই আসনটি নিয়ে অনেক দিন ধরে সিপিএমের সঙ্গে তাদের দর কষাকষি চলছিল। সোমবার আইএসএফ নেতৃত্ব অশোকনগরে প্রার্থী হিসেবে তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করেছে। এক সিপিএম নেতার কথায়, ‘‘রাজ্যে এমন তিনটি আসন আছে, যেখানে সিপিএম বা বাম নেতৃত্ব প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। সেখানেও আইএসএফ প্রার্থী দিয়েছে। ফলে এই জোট আদৌও শেষ পর্যন্ত হবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য নেতৃত্ব আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন।’’ এই পরিস্থিতিতে আইএসএফ প্রার্থী হয়ে বামেদের কতটা সক্রিয় যোগদান দেখা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে নানা মহলে। বুধবার পর্যন্ত বাম কর্মীদের আইএসএফ প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামতে দেখা যায়নি। তাঁদের বক্তব্য, এ নিয়ে দলীয় নির্দেশ এখনও আসেনি।

অনেক দিন ধরেই অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে জোরদার রাজনৈতিক দর কষাকষি চলছিল সিপিএম এবং আইএসএফের মধ্যে। সিপিএম সূত্রের খবর, স্থানীয় এবং জেলা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এ বার রাজ্য নেতৃত্বের কাছে অশোকনগর আসনে সিপিএমের প্রার্থী দেওয়ার দাবি করা হয়েছিল। সিপিএমের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি ছিল, এখানে তাদের সংগঠন আইএসএফের থেকে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী। নিয়মিত মিটিং-মিছিল-জনসভায় ভিড়, তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় যোগদান এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনসংযোগ চলে নিয়মিত। সিপিএমের একাংশের মতে, অশোকনগর বিধানসভা এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটার প্রায় ২৬ শতাংশ। বাকি ভোটারদের বড় অংশই উদ্বাস্তু সমাজভুক্ত, যার মধ্যে মতুয়া সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। তাঁদের যুক্তি, এই সামাজিক বিন্যাসে আইএসএফ প্রার্থী দিলে তাদের জয়লাভ কঠিন হবে।

তা ছাড়া, পুরসভা এলাকায় আইএসএফের সংগঠন কার্যত নেই বলেই দাবি সিপিএমের। গত পুরসভা নির্বাচনে তারা প্রার্থী দিতে পারেনি। এমনকি, সাম্প্রতিক লোকসভা ভোটে বহু বুথে আইএসএফ পোলিং এজেন্টও দিতে পারেনি— এই অভিযোগও উঠছে বাম শিবির থেকে।

আইএসএফ নেতৃত্বের দাবি ছিল, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অশোকনগর কেন্দ্র থেকে আইএসএফ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। জয়ী না হলেও তিনি প্রায় ৪৬ হাজার ভোট পান। যদিও সে সময়ে বাম শিবিরের একাংশের মধ্যে আইএসএফকে আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্বস্তি ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। প্রচারে সেই অনীহার ছাপও দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ।

পরবর্তীতে লোকসভা নির্বাচনে বারাসত কেন্দ্র থেকেও আইএসএফ প্রার্থী হন তাপস। অশোকনগর বিধানসভা এলাকায় তিনি প্রায় ২৬ হাজার ভোট পান। আইএসএফ নেতৃত্বের দাবি, ওই নির্বাচনে তারা বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থীর তুলনায় অশোকনগরে বেশি ভোট পেয়েছিল। সেই ফলাফলকে হাতিয়ার করেই তারা আসন দাবি জোরদার করছে।

আইএসএফের দাবি, অশোকনগর বিধানসভা এলাকার আটটি পঞ্চায়েতেই তাদের সদস্য রয়েছে। সদস্য সংখ্যা ১৮। তুলনায় সিপিএমের সদস্য ছিলেন আট জন, যাঁদের মধ্যে এক জন ইতিমধ্যেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। আটটির মধ্যে মাত্র দু’টি পঞ্চায়েতে— গুমা ২ ও বিড়া রাজীবপুরে সিপিএমের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে বলে আইএসএফের দাবি।

আইএসএফের অশোকনগরের প্রার্থী তথা দলের রাজ্যের সহ-সভাপতি তথা দলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সভাপতি তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘২০২১ সালে আমরা এখানে প্রার্থী দিয়েছিলাম এবং এখানে আমাদের শক্তি আছে তাই আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’’ বামেদের সঙ্গে জোটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘সিপিএম নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অশোকনগরে আমরা লড়াই করব।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
ISF Ashoknagar CPIM

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy