Advertisement
E-Paper

পেট্রাপোলে অচলাবস্থা কাটল, তিন দিন পর অবশেষে কাজে ফিরলেন শ্রমিকেরা, বিজেপির দুই মন্ত্রীর ‘বিবাদেই’ জট?

পেট্রাপোল সীমান্তে কাজের দখলদারি নিয়ে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতর রয়েছে। সম্প্রতি বিজেপির দুই মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে তা নিয়ে গোলমাল হয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৮:০৯
(বাঁ দিকে) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল স্থলবন্দরে গত তিন দিন ধরে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা অবশেষে কাটল বুধবার। আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের সমস্যার প্রাথমিক সমাধান করা হয়েছে। ফলে শ্রমিকেরা আবার কাজে ফিরেছেন। যদিও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পেট্রাপোলের অচলাবস্থায় বিজেপির দুই মন্ত্রীর ‘গোষ্ঠীবিবাদ’ প্রকাশ্যে চলে এসেছিল। আপাতত সেই ‘ক্ষতে’ প্রলেপ দেওয়া গিয়েছে।

পেট্রাপোল সীমান্তে কাজের দখলদারি নিয়ে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতর রয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এবং রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার ঘনিষ্ঠ শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বের মধ্যে কাজের ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। অভিযোগ, কোন সংগঠন কতটা কাজ করবে, তা নিয়ে দু’জন ভিন্ন ভিন্ন সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। তাতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং তাঁরা জট না কাটা পর্যন্ত কাজ করবেন না বলে জানিয়ে দেন। এর ফলে গত ১ নভেম্বর থেকে পেট্রাপোল বন্দরে পণ্যের লোডিং, আনলোডিং বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশ থেকে আসা একাধিক পণ্যবাহী ট্রাক তাই আটকে পড়ে। শুল্ক দফতরের ক্লিয়ারিং বিভাগের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, তিন দিনে ১৮০টির বেশি ট্রাক আটকে ছিল। মাছ ইত্যাদি পচনশীল পণ্য যাতে নষ্ট না হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অনুরোধে আট থেকে ন’টি ট্রাক খালি করা হয়েছিল। কিন্তু এই অচলাবস্থায় সার্বিক ভাবে প্রভাব পড়ছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। বুধবার আলোচনার মাধ্যমে প্রাথমিক সমাধানসূত্র মেলায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে শ্রমিক মহলে।

বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক তথা রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কিছু দিন আগে পেট্রাপোল সীমান্তে গিয়ে ‘ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি’র ম্যানেজার এবং বিএমএস (ভারতীয় মজদুর সংঘ) নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএমএস শ্রমিকদের ৭৮ শতাংশ এবং ভিন্‌রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের ২২ শতাংশকে কাজ দেওয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু কিছু দিন পর বিএমএস-ই দুটো গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে যায় বলে খবর। কাজের ভাগাভাগি নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধ শুরু হলে আসরে নামেন বনগাঁর সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু। তিনি পেট্রাপোল স্থলবন্দরের ম্যানেজারের সঙ্গে বৈঠক করেন। নতুন করে কাজের ভাগ নির্ধারণ করে দেন। তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিটু-কে ৩০ শতাংশ এবং বিএমএস-কে ৭০ শতাংশ কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়। বিএমএস-এর মধ্যে আবার বিএমএস-১-কে ৫০ শতাংশ এবং বিএমএস-২-কে ২০ শতাংশ কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যা মানতে নারাজ খাদ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ শ্রমিক নেতারা। বুধবার শেষ পর্যন্ত ৭৮-২২ শতাংশের হিসাবেই কাজ শুরু হয়েছে।

শ্রমিক সুব্রত দাস বলেন, ‘‘দীর্ঘ ২০-৩০ বছর ধরে যাঁরা বন্দরে কাজ করছেন, তাঁদের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। পাঁচটি শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে আগে থেকেই নির্দিষ্ট অনুপাতে কাজের বণ্টন ছিল। বিএমএস-কে ৭৮ শতাংশ এবং দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অন্যান্য শ্রমিককে ২২ শতাংশ কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই অনুপাত মেনে কাজ শুরু হয়েছে।’’ শ্রমিক রবিন সরকার জানান, তাঁদের আন্দোলনের মূল দাবি ছিল কাজের নিশ্চয়তা। কাজ বন্ধ থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। সমস্যা মিটিয়ে কাজে ফিরতে পেরে তাঁরা খুশি। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান শ্রমিকেরা।

Petrapole Land Port BJP Shantanu Thakur Ashok Kirtania

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy