ডেঙ্গি পরিস্থিতির মোকাবিলায় আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত কলকাতা-সহ রাজ্যের সব পুরসভা, জেলা প্রশাসন, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। এর মধ্যে সুন্দরবনে বাড়ছে ডেঙ্গির সংক্রমণ। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ এলাকায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে উদ্বেগ।
কাকদ্বীপ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু অক্টোবর মাসে ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ছে। তবে স্বস্তির বিষয়, এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গিতে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
ওই হাসপাতাল সূত্রে খবর, জুলাই মাসে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মাত্র চার জন। অগস্টে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ জনে। সেপ্টেম্বর মাসে ৩৫ জন ডেঙ্গি আক্রান্তকে ভর্তি করানো হয়েছিল। আর অক্টোবর মাসে সেই সংখ্যা পৌঁছেছে ৬০ জনে।
এখন কাকদ্বীপ হাসপাতালে দু’জন ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, রোগীদের কারও জ্বর নেই। শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হতে পারে। হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু রায় জানিয়েছেন, ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কোনও রোগীকেই এখনও পর্যন্ত উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরিত করতে হয়নি। ডেঙ্গিতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। নভেম্বর মাসে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে সংক্রমণের হারও কমবে বলে মনে করছেন ওই চিকিৎসক।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, ডেঙ্গির সংক্রমণ রুখতে সুন্দরবনের পঞ্চায়েত ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়া, মশার বংশবিস্তার রোধ এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার উপর জোর দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় উদ্বেগও রয়েছে।