ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের কার্যালয় থেকে উদ্ধার হল ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় তৃণমূলের এক কার্যালয়ে হানা দেয় ডায়মন্ড হারবার পুলিশ। ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার হয়। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক মজুমদার জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জেরা করেই ওই টাকার সন্ধান মিলেছে।
অন্য দিকে তৃণমূলের দাবি, যে দলীয় কার্যালয়ের কথা বলা হচ্ছে, সেটি তারা ইজারা নিয়ে চালাত। ২০২৩ সালে তিন বছরের জন্য ইজারা নেওয়া হয়েছিল সেটি। গত ২১ মে রাতে সেখানে দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর এবং লুটপাট করে। এই নিয়ে ডায়মন্ড হারবার পুলিশকে অভিযোগও জানানো হয়েছিল। ভাঙচুরের ঘটনার পরেই বাড়ির মালিককে ওই বাড়ি ফেরত দেওয়া হয় বলে দাবি তৃণমূলের।
শালবনির জমি-দুর্নীতির মামলার পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কালীতলা আশুতি থানা এলাকায় মাটি চুরির মামলাতেও নাম জড়িয়েছে সুমিতের। শালবনির মামলায় আগে থেকেই জেল হেফাজতে ছিলেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক। কালীতলার মামলায় গত শনিবার তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, হেফাজতে নেওয়ার পরে সুমিতকে দীর্ঘ জেরা করা হয়। তাতে নির্দিষ্ট কিছু সূত্র পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরেই ডায়মন্ড হারবারের সরিষায় তল্লাশি চালানো হয়। সে সময়েই তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে নগদে প্রায় ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা পাওয়া যায়। তবে কার্যালয়টি কে পরিচালনা করতেন, সে বিষয়ে পুলিশকে প্রশ্ন করা হলে নির্দিষ্ট ভাবে কিছু জানাননি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, “পার্টি অফিসটি কার সেটি এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এটি তৃণমূলের পার্টি অফিস ছিল। সেটি কে চালাতেন, তা যাচাই করে দেখতে হবে।”
আরও পড়ুন:
তৃণমূলের পার্টি অফিসে এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কেন রাখা হয়েছিল, কোথা থেকে এল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই টাকার উৎস কী, সে বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তবে কালীতলা আশুতি থানায় যে মামলা রুজু হয়েছে, তার সঙ্গে এর যোগ রয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, কালীতলা আশুতি থানা এলাকায় কিছু সরকারি এবং বেসরকারি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা নিয়ে একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল। ওই ঘটনায় সুমিত-সহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছিল কালীতলা আশুতি থানায়। জেলবন্দি সুমিতকে ওই মামলায় গত শনিবার আলিপুর আদালতে শোন অ্যারেস্টের (একটি মামলায় জেল হেফাজতে থাকা অভিযুক্তকে অন্য মামলায় হেফাজতে নেওয়া)আবেদন জানায় পুলিশ। ওই আবেদন মঞ্জুর করে বিচারক সুমিতের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।