এসআইআর-এর পরে, প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় নাম ছিল মুর্শিদাবাদের সুতির আব্দুল জাব্বারের। রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভায় ভোটও দিয়েছেন তিনি। তার পরেও ৮ অগস্ট রাতে তাঁকে বাংলাদেশি সন্দেহে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় বলে দাবি পরিবারের। জাব্বারের দুই নাবালক ছেলেকেও আটক করা হয়। সুতি থানার দাবি, তারা তদন্তে জেনেছে জাব্বার বাংলাদেশি। তাই তিন জনকে সে দেশে পাঠানো হয়েছে।
বৈধ নথি থাকলেও বীরভূমের সুনালী খাতুন, সুইটি বিবির মতো অনেককে বাংলাদেশি সন্দেহে ‘পুশব্যাক’ করা হয়। নির্বাচন কমিশনের কাছে এসআইআর-পর্বে প্রামাণ্য নথি হিসেবে গৃহীত পাসপোর্ট থাকলেও জাব্বারের ‘পুশব্যাক’-এ ক্ষুব্ধ পরিবার।
জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, ‘‘গোলমাল করেছে পুলিশ। যিনি ভোট দিয়েছেন, যাঁর ভারতের পাসপোর্ট রয়েছে, তিনি কী করে বাংলাদেশি হন? আরও তদন্ত জরুরি। যত দূর জেনেছি, জাব্বার বা তাঁর ছেলেরা কেউই বাংলাদেশি নন।’’ জঙ্গিপুর পুলিশ-জেলার সুপার সুরিন্দর সিংহ ফোন ধরেননি। মোবাইল বার্তারও উত্তর দেননি।
জাব্বারের মেসো জামিরুল শেখের দাবি, জাব্বারের বাবা নাজমুল রসিদের বাড়ি ছিল বাংলাদেশে। তিনি বিয়ে করেন সুতির বাসিন্দা মর্জিনা বিবিকে। এ দেশে জন্ম জাব্বারের। জামিরুলের কথায়, ‘‘বাবার মৃত্যুর পর জাব্বার আমার কাছে আসে। আমার বাড়িতেই জন্ম ওর ছেলেদের। সবার জন্মের শংসাপত্র বাড়িতেই রয়েছে। সে সব নিয়ে আমি আদালতে যাব।’’
জাব্বারের স্ত্রী ঝুমা বিবি সুতির বড় কাঁকড়ামারির বাপের বাড়িতে গিয়েছেন ১১ মাসের ছেলেকে নিয়ে। তিনি বলেন, “সব ছেলেই জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে জন্মেছে। তা হলে কোলেরটাকেও কেন ওরা বাংলাদেশে পাঠাল না!’’ তাঁর আর্তি, ‘‘স্বামী, দুই ছেলেকে এখনই ফিরিয়ে আনা হোক।”
সুতির রমাকান্তপুরের ইব্রাহিম শেখকেও ২৮ জুলাই গভীর রাতে সাদা পোশাকের পুলিশ বাংলাদেশি সন্দেহে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান বলে দাবি পরিবারের। ইব্রাহিমের নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি। তবে ফের নাম তুলতে ট্রাইবুনালে গিয়েছিলেন তিনি। বৃদ্ধের পুত্রবধূ পারভিন খাতুনের কথায়, ‘‘পুলিশ সব নথি-সহ শ্বশুরমশাইকে নিয়ে থানায় যায়। উনি কোথায়, জানি না।’’ শ্বশুরের খোঁজ পেতে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছেন পারভিন। ২২ সেপ্টেম্বর শুনানি হওয়ার কথা। সুতি থানার পুলিশের দাবি, ইব্রাহিমকে তদন্তের পরেই বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
সাংসদ বলেন, ‘‘আগেও পুশব্যাক হয়েছে। আবার আদালতের হস্তক্ষেপে তাঁদের ফেরত আনতে হয়েছে। কিন্তু সে জন্য কাঠখড় পোড়াবে কে?’’