E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ভিড়ে ঠাসা ট্রেন থেকে পা পিছলে প্ল্যাটফর্মে, মৃত্যু বৃদ্ধের

খুদিকা গ্রামের স্থানীয় সূত্রের খবর, সুধাংশু ইসিএলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। অবসরের পরে গ্রামেই একটি দোকান করেছিলেন।

শেষ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৫৬

ভিড় উপচে পড়া লোকাল ট্রেনে পা রাখার জায়গা নেই। কোনও মতে দলের অন্যেরা উঠতে পারলেও, পারেননি অশীতিপর বৃদ্ধ। ট্রেন ছেড়ে দিলেও কামরার দরজার মাঝে থাকা হাতল ধরতে না পেরে তিনি সামনে থাকা অন্য দুই সঙ্গীকে আঁকড়ে ধরেন। কিন্তু ট্রেনের গতি বেড়ে যাওয়ায় প্ল্যাটফর্মে আছড়ে পড়েন তিন জনই। তখনই পা পিছলে ট্রেনের নীচে ঢুকে গিয়ে মৃত্যু হল ওই বৃদ্ধের।

বুধবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া শাখার বালি স্টেশনে। রেল পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতের নাম সুধাংশুকুমার নামকীর্তন। ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন তাঁর দুই সঙ্গী— নরেশচন্দ্র গড়াই ও পরিমল ভান্ডারি। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে পরিমলকে ছেড়ে দেওয়া হলেও নরেশ হাসপাতালে ভর্তি। জানা গিয়েছে, পশ্চিম বর্ধমানের সালানপুরের খুদিকা গ্রামের বাসিন্দা সুধাংশু এবং তাঁর প্রতিবেশী আরও চার জন এ দিন দক্ষিণেশ্বরে এসেছিলেন পুজো দিতে।

খুদিকা গ্রামের স্থানীয় সূত্রের খবর, সুধাংশু ইসিএলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। অবসরের পরে গ্রামেই একটি দোকান করেছিলেন। তাঁর স্ত্রী আগেই মারা গিয়েছেন। বাড়িতে আর কেউ নেই। এ দিন দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সুধাংশুর আত্মীয়েরা বেলুড়ে আসেন। জানা গিয়েছে, এ দিন সকালে সুধাংশুরা দক্ষিণেশ্বরে এসেছিলেন। পুজো দিয়ে তাঁরা অটোয় বালি হল্টে যান। সেখান থেকে নীচে নেমে হাওড়া ডিভিশনের বালি স্টেশনে গিয়েছিলেন। দুপুর ৩টে নাগাদ সেখান থেকে হাওড়া গিয়ে বর্ধমানের ট্রেন ধরার পরিকল্পনা ছিল বলে জানাচ্ছেন সুধাংশুদের দলে থাকা সুভাষ বাউড়ি। তিনি বলেন, ‘‘ট্রেনে খুব ভিড় ছিল। কোনও মতে আমরা উঠে পড়লেও সুধাংশুদা উঠতে পারছিলেন না। তখনই পড়ে যান। পুজো দিয়ে ফেরার পথে এমন অঘটন ঘটবে, ভাবতেও পারছি না।’’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে হাওড়ামুখী লোকাল ট্রেনে উঠছিল ওই দলটি। ভিড়ের চাপে সুধাংশু প্রথমে উঠতে পারেননি। ভিড়ের কারণে কামরার দরজার মাঝে থাকা হাতলও ধরতে পারেননি। দরজার সামনেই ভিড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সুধাংশুর সঙ্গীরা। ট্রেন ছেড়ে দিতেই ওই বৃদ্ধ সামনে থাকা পরিমল ও নরেশকে আঁকড়ে ধরেন। কিন্তু তাঁরা ওই বৃদ্ধকে টেনে তোলার আগেই ট্রেন গতি বাড়ায়। তখনই সুধাংশুরও পা পিছলে যেতেই তাঁর টানে অন্য দু’জনও প্ল্যাটফর্মে আছড়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানাচ্ছেন, প্ল্যাটফর্মে পিছলে গিয়ে সুধাংশুর পা ট্রেনের কামরার নীচে ঢুকে যায়। তিনিও ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের ফাঁক দিয়ে নীচে ঢুকে যান। এই দৃশ্য দেখে চেঁচামেচি শুরু করেন অন্য যাত্রীরা। যদিও ট্রেন ততক্ষণে বেলুড়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। সুভাষ বলেন, ‘‘ফোনে দুর্ঘটনার খবর শুনে বেলুড়ে নেমে তড়িঘড়ি বালিতে ফিরে আসি।’’ খবর পেয়ে বেলুড় জিআরপির আধিকারিকেরা পৌঁছন। তিন জনকেই বেলুড় স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে সুধাংশুকে মৃত বলে জানান চিকিৎসকেরা। পরিমলকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছাড়া হলেও গুরুতর আহত নরেশকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Bally Station

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy