মেটিয়াবুরুজের গাজী মসজিদ লাগোয়া ইদগাহে উৎসবের দিন সাধারণত বার তিনেক জমায়েত হয় নমাজিদের। তিন দফায় নমাজ পড়েন স্থানীয় প্রায় ১৫টি মসজিদের এলাকার বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার ইদুজ্জোহার সকালে সেখানে বার দুয়েকের বেশি নমাজের লোক হল না। রেড রোড থেকে সরে সুদীর্ঘ পাঁচ দশক বাদে ইদের নমাজ এ বার সরেছে ব্রিগেড প্যারেডের মাঠে। উদ্যোক্তারা তথা প্রশাসন দু’লক্ষ লোকের সমাবেশের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। ব্রিগেডের মাঠের নজিরবিহীন নমাজের জমায়েতেও মেরেকেটে ১০-১৫ হাজারের বেশি ভিড় হল না!
নিউ টাউনের এনকেডিএ-র ফুটবল মাঠে কয়েক বছরের রীতি মেনে পাশাপাশি ঘেরাটোপে নমাজ পড়েছেন পুরুষ ও মহিলারা। তাতেও ভিড় কম। কুরবানি নিয়ে নানা সরকারি বিধিনিষেধ, অনিশ্চয়তার ফলেই উৎসব এতটা নিচু তারে বাঁধা থাকল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।
কলকাতার মুসলিম প্রধান মহল্লাগুলিতে কুরবানি হয়েছে কড়া নজরদারিতে। পুলিশের ড্রোন পর্যন্ত পাক খেয়ে নজর রেখেছে। ১৯৫০ সালের পশু জবাই সংক্রান্ত আইন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা নিয়ে তৎপর ছিল প্রশাসন। গার্ডেনরিচের সমাজকর্মী সুজাউদ্দিন মোল্লা বললেন, “বেশির ভাগ এলাকায় শতকরা ৩০ ভাগ কুরবানি হয়েছে। বড় পশুর অনেকটা মাংস এক সঙ্গে ভাগ করা হয়। এ বার প্রধানত ধনীরাই বিপুল খরচে ছাগবলি দিয়েছে।’’
কলকাতার নানা রাজনৈতিক দুর্যোগ, অতিমারিতেও এতটা নিষ্প্রভ ইদ আগে তেমন দেখা যায়নি বলে অনেকের অভিমত। তবে ব্রিগেডের মাঠে খিলাফত কমিটির সভাপতি জাভেদ খান বললেন, “রাজ্যের আইনের সঙ্গে সংঘাতের পথে না হেঁটে আমরা ইদ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” নিউ টাউনে নমাজিদের শরবত, মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়নের সৌজন্যে শরিক হন স্থানীয় আবাসনের অমুসলিম বাসিন্দারা। দক্ষিণ দিনাজপুরের ইটাহারের ডাক্তারির ছাত্র সরিফুল ইসলাম থেকে তালতলার রেস্তরাঁ কর্মী মনজর আকিম মিলে গেলেন বিশেষ দিনের জমায়েতে। ব্রিগেডের দোয়ায় সব ধর্ম নির্বিশেষে সুবিচারে সরকারের সুমতির জন্যও আর্তি শোনা গেল। জাতীয় পতাকা নিয়ে এসেছিলেন কেউ কেউ। নমাজ শেষের পরেও আকুল হয়ে কেঁদে কেঁদে আরও ধৈর্য, সহনশীলতার জন্য প্রার্থনার সুরটাই রেশ রেখে দিল।