চমকে দিলেন মারিয়ান আলেকজ়ান্ডার বেবি! রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) এবং বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করার পরামর্শ দিতে গিয়ে তামিলনাড়ুর এমন এক সমাজ সংস্কারের সংগ্রামীর নাম তুলে আনলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক, প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত দলের নেতাদের সিংহ ভাগই সেই নাম কখনও শুনেছেন বলে মনে করতে পারলেন না!
সূত্রের খবর, কল্যাণীর ঋত্বিক সদনে সিপিএমের রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশনের শেষ লগ্নে তাঁর পর্যবেক্ষণমূলক বক্তব্যে ভাইকুন্ডা স্বামীগলের নাম করেছেন বেবি। এই স্বামীগলের জন্ম কার্ল মার্ক্সেরও ৯ বছর আগে! দক্ষিণ তামিলনাড়ুর ত্রাভাঙ্কোর এলাকায় উনিশ শতকের প্রথম দিকে ভয়াবহ জাত-বৈষ্যমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন স্বামীগল। জাত ও ধর্মের নামে বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতা, সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে বার্তা দিতে চালু করেছিলেন ‘সমপন্থীভোজন’ অর্থাৎ একসঙ্গে সকলের খাওয়ার ব্যবস্থা। কেন এমন উদাহরণ বেবির মুখে? বামপন্থীদের সঙ্গে মতাদর্শগত সম্মুখ সমরে নেমে সঙ্ঘ পরিবার তথা বিজেপি নেতাদের কথায় বারবার উঠে আসে বামেদের ভাবনায় ‘বিদেশি প্রভাবে’র অভিযোগ! বেবির পরামর্শ, বৈষম্য ও বিভাজনের প্রতিবাদে বা সামাজিক ন্যায়ের দাবিতে লড়াই চিরন্তনএবং দেশের সীমা অতিক্রমকারী। সেখানে মার্ক্স যেমন আছেন, তার কার্যত আগে থেকেই স্বামীগলের মতো দেশীয় চিন্তা-নায়কেরাও আছেন।
বেবি যখন দলীয় অধিবেশনে এই কথা বলছেন, রবিবারই বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার ‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ শিবির’ থেকে বেরিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছেন, ‘‘দু’টো কাজ তো একদম সবাইকে (দলের) মন্ত্রগুপ্তির মতো শপথবাক্য পাঠ করাচ্ছি! তৃণমূলকে একদম গণতান্ত্রিক ভাবে খতম। আর সিপিএম যাতে উঠতে না-পারে!’’
সঙ্ঘ তথা বিজেপি যে সিপিএমকে ‘উঠতে’ দেবে না, তা বুঝেই তাদের পাতা ফাঁদ থেকে বেরোনোর পথ খুঁজছেন বেবি, মহম্মদ সেলিমেরা। দলের অন্দরে চর্চা শুরু হয়েছে, বিজেপি বারেবারেই বামেদের ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর তকমায় বেঁধে রাখতে চাইবে। সেখানে শুধু মার্ক্স বা ‘আজ়াদি’র স্লোগানই চলতে থাকলে বিতর্ক হবে, কিন্তু বিজেপির চেনা ছকেই আটকে থাকতে হবে। সিলেবাসে বরং বদল আনতে পারলে বিজেপির জন্য বিড়ম্বনা হতে পারে। ছাত্র-আন্দোলনে সিজেপি যেমন করে দেখিয়েছে। এই ভাবনা থেকেই দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বামপন্থী ধারা, বাংলার বিপ্লবী থেকে কবি নজরুল ইসলামদের কথা বেশি করে সামনে আনতে চাইছে সিপিএম। কল্যাণীর অধিবেশন-স্থলে প্রদর্শনী হয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলনের উপরেই।
অধিবেশনের পরে সমাবেশেও বেবির বক্তব্য, ‘‘স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেই সময় থেকেই প্রান্তিক মানুষ লাল ঝান্ডার প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছেন। আমাদের দল এবং সংগঠন এখন নতুন করে জমি তৈরি করছে। বাংলায় নতুন প্রজন্মের অনেক প্রতিনিধি উঠে আসছেন।’’ নজরুলের লেখা স্মরণ করিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সেলিম বলেছেন, ‘‘আমরা ধর্মের বিরোধী নই। ধর্মকে নিয়ে রাজনীতির বিরোধী।’’ সঙ্গে সংযোজন, ‘‘বিজেপি ভারতমাতার জয় বলে। তা হলে ভারতমাতার সব সন্তানকে সমান চোখে না-দেখে বিভাজন করে কেন!’’