হুগলির জেলা সদর চুঁচুড়া এবং দুই মহকুমা শহর চন্দননগর ও শ্রীরামপুরে ইতিমধ্যেই পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস (পিএনজি) সরবরাহের পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি। কিছু এলাকার বাসিন্দারা ওই গ্যাস ব্যবহারও শুরু করেছেন। এ বার পর্যায়ক্রমে সিলিন্ডার-নির্ভরতা ছেড়ে সাধারণ মানুষকে পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হবে।
সম্প্রতি কলকাতার নিউটাউনে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানির সদর দফতরে গ্যাস কোম্পানিগুলির পদস্থ কর্তাদের উপস্থিতিতে বৈঠকে স্থির হয়েছে, কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এলপিজি-মুক্ত (অর্থাৎ, সিলিন্ডারমুক্ত) অঞ্চল গড়ার উপরে জোর দেওয়া হবে। আগামী দিনে শহরাঞ্চলে শুধুমাত্র পাইপ লাইন বাহিত গ্যাস পরিষেবাই থাকবে। অন্য কোনও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা থাকবে না।
বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানির পদস্থ কর্তা সমিতকুমার ঘোষ জানান, আপাতত স্থির হয়েছে, প্রতিটি অঞ্চলে এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের মাধ্যমেই পাইপ লাইন বাহিত গ্যাসের প্রচার করা হবে। তাঁরাই নিজেদের গ্রাহকদের পিএনজি-র গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে প্রচার করবেন, যাতে মানুষ সেই সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন। তিনি বলেন, ‘‘এই গ্যাসের সরবরাহ মানুষ নিরবচ্ছিন্ন ভাবে পাবেন। এই গ্যাস ব্যবহারে ঝুঁকির মাত্রাও অত্যন্ত কম।’’
বৈঠকে ঠিক হয়েছে, যেহেতু চন্দননগর, চুঁচুড়া, ব্যান্ডেল, দেবানন্দপুর এবং নদিয়ার কল্যাণী-সহ বিভিন্ন এলাকায় পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ চালু করা হয়েছে, তাই ওই সব এলাকার সংশ্লিষ্ট এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পিএনজি সংযোগ এবং সুবিধার বিষয়ে প্রচারে জোর দেওয়া হবে। ওই ডিস্ট্রিবিউটরেরা প্রাথমিক ভাবে গ্রাহকদের নোটিস জারি করবেন। তাতে জানানো হবে, পাইপ লাইনে পিএনজি সরবরাহ করা শুরু হয়েছে। তাই গ্রাহকদের পিএনজিতে স্থানান্তর করা জরুরি।
অয়েল মার্কেটিং কোম্পানির প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি নোটিস দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবেন। যে সব জায়গায় পিএনজি পাইপ লাইনে সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হবে, সেই এলাকাকে ধাপে ধাপে ‘এলপিজিমুক্ত অঞ্চল’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।