E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

যাদবপুর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি বামের, পাল্টা তোপও

বিজেপি অবশ্য দেশ-বিরোধিতার অভিযোগেই শাণ দিয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “যাদবপুরে মুষ্টিমেয় কিছু ছাত্র আছেন, যাঁরা বিচ্ছিন্নতাবাদী, ভারত-বিরোধী, আফজল গুরুর সমর্থনে স্লোগান দেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ অগস্ট ২০২৬ ০৭:৫৪
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও মেদিনীপুর কলেজে হামলার প্রতিবাদে এসএফআইয়ের ডাকে নাগরিক মিছিল।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও মেদিনীপুর কলেজে হামলার প্রতিবাদে এসএফআইয়ের ডাকে নাগরিক মিছিল। — নিজস্ব চিত্র।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশে ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’য়ের উপস্থিতি এবং তারা ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন করে না বলে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ভুল খবর’ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করে রবিবার পাল্টা ‘খোলা চিঠি’ লিখল সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। উল্টো দিকে, ঘটনার পরে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের বিরুদ্ধে ‘দেশ-বিরোধিতা’র যে অভিযোগ শোনা গিয়েছে, তা-ই এ দিন অব্যাহত রেখেছে বিজেপি এবং আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি।

এসএফআই-এর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কমিটির তরফে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আপনি বলেছেন, যাদবপুরে জাতীয় পতাকা ওড়ে না! মনে হয়, আপনাকে যিনি বা যাঁরা খবর দিচ্ছেন, তাঁরা ভুল খবর দিচ্ছেন। এ-ও বলেছেন, যাদবপুরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাতে দেওয়া হয় না। ১৯ অগস্ট রাতে বহিরাগতদের কীর্তিকলাপ সিসিটিভি-তেই ধরা পড়েছে। সেগুলি মিথ্যা?’ যাদবপুরে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের জন্য কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি সমাজমাধ্যমে ‘পোস্ট’ করে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও বলেছেন, “যাদবপুর সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর অপপ্রচার বেমালুম ধরা পড়ে গেল। জাতীয়তাবোধ-শিক্ষা-দেশপ্রেমের পাঠ দলবদলু আর ক্ষমতার দালালদের কাছে ছাত্রেরা শিখবেন কেন? বরং, সবক শেখাবে অপরাধীদের! মিথ্যাচারের জন্য ক্ষমা চান।” মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতায় সরব হয়েছে এসইউসি-র ছাত্র সংগঠন ডিএসও।

বিজেপি অবশ্য দেশ-বিরোধিতার অভিযোগেই শাণ দিয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “যাদবপুরে মুষ্টিমেয় কিছু ছাত্র আছেন, যাঁরা বিচ্ছিন্নতাবাদী, ভারত-বিরোধী, আফজল গুরুর সমর্থনে স্লোগান দেন। ‘ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে’ স্লোগানও শোনা গিয়েছিল। অতীতে এক মন্ত্রীকে আক্রমণ করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী পুরোটার উপরে কঠোর নজর রেখেছেন। যা বলার তাঁরা বলবেন, যা করার তাঁরা করবেন।” এবিভিপি-র রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্যের হুঁশিয়ারি, “ছ’মাসের মধ্যে দিমাগি নকশালেরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে না।” পাশাপাশি, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হরেকৃষ্ণ বেরা বাঁকুড়ায় শিক্ষক সম্মেলনে যোগ দিতে এসে বলেছেন, “যাদবপুরের মতো ঘটনা রুখতে গেলে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্মভূমির প্রতি টান তৈরি করতে হবে। তাদের মধ্যে রাষ্ট্রবাদী, জাতীয়তাবাদী মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তা না-হলে ভারতে থেকেই বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির সঙ্গে তাঁরা হাত মেলাবেন।”

এই প্রেক্ষিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (জুটা) বক্তব্য, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ঐতিহ্য মেনে স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস উদ্‌যাপন করে। সূচনা পর্ব থেকেই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ, বন্দে মাতরম্ ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া আমাদের পরম্পরা। যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলি পালন করা হয়। এই বছরও উচ্চশিক্ষা দফতরের ঘোষিত প্রতিটি অনুষ্ঠানই যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে’।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Protest midnapore college Left BJP

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy