সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিবস উপলক্ষে রাজ্য জুড়ে ‘দেশপ্রেম দিবস’ উদ্যাপন করার পাশাপাশি সমসময়ের ‘সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’কে হারানোর ডাক দিলেন বামফ্রন্ট নেতৃত্ব। ‘কেন্দ্রীয় নেতাজি জয়ন্তী কমিটি’র উদ্যোগে শুক্রবার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে সুভাষচন্দ্রের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়, সিপিএমের মহম্মদ সেলিম, আরএসপি-র মনোজ ভট্টাচার্য প্রমুখ। পাশাপাশি, দিল্লিতে সমাবেশ করে সুভাষচন্দ্রের চিতাভস্ম বলে যা কথিত, তা জাপান থেকে কোনও অবস্থাতেই যাতে না-আনা হয়, সেই দাবি তুলেছে ফ ব।
ধর্মতলা থেকে শোভাযাত্রা করে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে পৌঁছন বাম নেতা-কর্মীরা। পরে সভা থেকে সুভাষচন্দ্রের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির কথা স্মরণ করে বর্তমানে যে ভাবে ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে আনা হচ্ছে, তার তীব্র বিরোধিতা করেছেন সেলিম। প্রসঙ্গত, সুভাষচন্দ্রের জন্মদিন থেকে মোহনদাস কর্মচন্দ গান্ধীর হত্যা দিবস ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে সপ্তাহভর নানা কর্মসূচি নিচ্ছে বামফ্রন্ট। আগামী ৩০ তারিখ ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংহতি’ দিবস পালন করবে তারা। সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ হবে ২৬ জানুয়ারি। নাকতলায় অভিনেত্রী পাপিয়া দেবরাজনদের উদ্যোগে সুভাষচন্দ্রের জন্মদিবস উপলক্ষে ‘দেশপ্রেম দিবস’ পালন করেছে ‘জয় হিন্দ দেশপ্রেমী মঞ্চ’-ও।
দেশ জুড়েও দিনটিকে ‘দেশপ্রেম দিবস’ হিসাবে পালন করেছে ফ ব। দিল্লির দরিয়াগঞ্জে নেতাজি সুভাষ পার্কের সমাবেশে যোগ দিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক জি দেবরাজন বলেছেন, “মুখার্জি কমিশনের রিপোর্ট কেন্দ্র আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রহণ করুক। এই কমিশন বলেছে, ১৯৪৫-এর ১৮ অগস্ট তাইহোকু বিমানবন্দরে কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। ফলে, জাপানে সুভাষচন্দ্রের চিতাভস্ম সংরক্ষতি থাকার কাহিনি মিথ্যা।” পাশাপাশি, সুভাষচন্দ্র সংক্রান্ত অবশিষ্ট নথি প্রকাশের জন্য সিট গঠনেরও দাবি তুলেছেন তিনি।
একই দিনে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে মার্ক্সবাদী ফরওয়ার্ড ব্লক এবং আরসিপিআই-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সেরেছেন সিপিএম নেতৃত্ব। রাজ্যে একটি বিধানসভা আসনে লড়তো মা ফ ব, তাদের ভাগের আসন রাখার দাবি করছে তারা। আরসিপিআই-ও অন্তত একটি বিধানসভা আসনে লড়তে চায়। প্রসঙ্গত, রাজ্যে এক সময়ে তাদের বিধায়ক ও মন্ত্রীও ছিলেন।