E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

রাস্তার নাম বদলে ‘বদল’ ইতিহাসের, তোপ বাম-সমাবেশে

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাস্তার নামকরণে ‘ভারতের ইতিহাসের ফেরানো’র কথা বলেছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪৮
নাম বদলের প্রতিবাদে বামপন্থী দলগুলির সমাবেশ। সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে।

নাম বদলের প্রতিবাদে বামপন্থী দলগুলির সমাবেশ। সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে। নিজস্ব চিত্র।

ক্ষমতায় এসে শহর তথা রাজ্যের বেশ কিছু রাস্তার নাম বদল করেছে বিজেপি, যা নিয়ে আপত্তিও জানাচ্ছে বাম দলগুলি। বিভিন্ন রাস্তার নামকরণের জন্য স্বামী প্রদীপ্তানন্দের (কার্তিক মহারাজ) নেতৃত্বে ১০ সদস্যের কমিটি গড়েছে সরকার। এখনও পর্যন্ত বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের কথায় ইঙ্গিত, তাঁরা বিদেশি ব্যক্তিত্বদের নামে থাকা কলকাতার নানা রাস্তার নাম বদলাতে চান। এই রাজনীতির মোকাবিলায় এ বার বামপন্থী দলগুলির আহ্বানে ‘বিশ্ববন্দিত মনীষীদের অবমাননার প্রতিবাদে’ সমাবেশ হল শহরে। সেখান থেকে ‘ইতিহাস বদলাতে দেব না’ বলে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাম নেতৃত্ব।

সিপিএম, সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন, সিপিআই, এসইউসি, আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লক-সহ বাম দলগুলির নেতৃত্ব সোমবার অভিযোগ করেছেন, প্রথমে ধর্মতলায় লেনিন মূর্তির কাছে সমাবেশের ডাক দেওয়া হলেও কয়েক ঘণ্টার নোটিসে প্রশাসনের আপত্তিতে সমাবেশ-স্থল সরিয়ে নিয়ে যেতে হয় সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে। যদিও প্রশাসন সূত্রে ব্যাখ্যা, ওই সময়ে বিজেপির ধর্মতলা পর্যন্ত ‘বিজয় মিছিল’ ছিল। সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারের সমাবেশ থেকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম রাজ্যের বিজেপি সরকারকে ‘নাম বদলের সরকার’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর তোপ, “স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ, খন্দে ভরা রাস্তা সারাই না-করে রাস্তার নাম বদলাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, সরকার বদলের সঙ্গে ভাবনারও বদল হবে। যাঁদের নিজেদের ইতিহাস থাকে না, তাঁরাই ইতিহাস পাল্টানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আমরা ইতিহাসকে বদলাতে দেব না, নতুন ইতিহাস তৈরি করব।” এসইউসি-র রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্যেরও অভিযোগ, “রাস্তার নাম বদল আসলে রাজ্যের গণ-আন্দোলনের সংস্কৃতির প্রতি আক্রমণ। রাস্তার নাম বদল, (বামেদের) দফতর ভাঙচুর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে আক্রমণ এরই অংশ।”

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাস্তার নামকরণে ‘ভারতের ইতিহাসের ফেরানো’র কথা বলেছিলেন। একই সঙ্গে, লেনিন, কার্ল মার্ক্স, হো চি মিনদের এই দেশ ও রাজ্যে কী অবদান, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁদের নামে কেন রাস্তা থাকবে, তা-ও ইঙ্গিত করে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এই প্রেক্ষিতেই সেলিমের পাল্টা বক্তব্য, “যে সব ধর্মগুরু, দার্শনিক, শিল্পী-সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ বিশ্বকে, মানব-সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেন, তাঁদের আবেদন বিশ্বজনীন।” এই প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের ‘সনাতনী-সমন্বয়ী আদর্শে’র কথা বলতে গিয়ে রামকৃষ্ণদেবের ‘যত মত, তত পথ’ দর্শনের কথা তুলে ধরেছেন ফ ব-ররাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়।

সমাবেশে বক্তৃতা করেছেন সিপিআই ও আরএসপি-র রাজ্য সম্পাদক যথাক্রমে স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, তপন হোড়, সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের কলকাতা জেলা সম্পাদক অতনু চক্রবর্তী প্রমুখ। ছিলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, দলের কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার, সিপিআই নেতা প্রবীর দেব, গৌতম রায় প্রমুখ। এসইউসি-র তরফে আগেই সিপিএম-সহ বামফ্রন্টের চার শরিক এবং লিবারেশনকে চিঠি দিয়ে রাস্তার নাম বদলের বিরোধিতায় দ্রুত প্রকাশ্য নাগরিক কনভেনশন করার ডাক দেওয়া হয়েছিল। পুজোর পরেই কনভেনশন হবে বলে বাম সূত্রের খবর।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
CPIM BJP

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy