ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন। কিন্তু তালিকায় নাম না থাকায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না মেলা-সহ নানা অপ্রাপ্তির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে মালদহ, মুর্শিদাবাদে। এসআইআর-এর সূত্রে প্রায় সাড়ে ১৫ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছিল এই দুই জেলা থেকে। ঘটনাচক্রে, ট্রাইবুনালে দুই জেলার যে ক’টি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে, তার অধিকাংশেই নাম যোগ করার নির্দেশ হয়েছে।
তালিকায় নাম নেই মালদহের ইংরেজবাজারের সাট্টারির বেজাউল মোমিনের মেয়ে রাখি খাতুনের। তিনি বলেন, “নাম তোলাতে ট্রাইবুনালে আবেদন করেছি। নিষ্পত্তি হয়নি। হয়তো সে জন্যই অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা পাইনি।” বেজাউলের কথায়, “ছয় ছেলে-মেয়ের মধ্যে চার জনের নাম তালিকায় নাম নেই। দুই ছেলে পরিযায়ী শ্রমিক। ভিন্-রাজ্যে কাজে গিয়ে বাংলাদেশি সন্দেহে জেলার অনেকে সমস্যায় পড়েছে।” প্রশাসন সূত্রের খবর, এসআইআরে জেলায় নাম বাদ গিয়েছিল আট লক্ষেরও বেশি। মালদহের ভোটার তালিকায় নাম যোগ বা বাদ দেওয়ার আর্জি নিয়ে এসআইআর ট্রাইবুনালে ৫ লক্ষ ৩১ হাজার ১৪৯টি আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে ১৪৭১টি আবেদনের নিষ্পত্তি ফয়সালা হয়েছে। ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রে ট্রাইবুনাল সংশ্লিষ্টের নাম ভোটার তালিকায় যোগের নির্দেশ দিয়েছে।
এসআইআরে মুর্শিদাবাদে নাম বাদ যায় ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯৫৯ জনের। লালগোলার এক ছাত্রী এ বার সর্ব ভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা ‘নিট’-এ পাশ করে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির কাউন্সেলিংয়ে ডাক পান বলে দাবি। ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়ায় স্থানীয় বিডিও-র কাছ থেকে ‘ডমিসাইল সার্টিফিকেট’ (বসবাসের শংসাপত্র) পাননি এবং সে জন্য ভর্তি-প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারেননি বলে ক্ষোভ তাঁর। হরিহরপাড়ার একটি মোটরবাইকের শো-রুমের ম্যানেজার আজাদ আলির দাবি, ‘‘শো-রুমে আসা তিন গ্রাহকের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না। যাঁদের নাম তালিকায় নেই, তাঁদের নামে মোটরবাইকের রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না।’’ এ নিয়ে মন্তব্য করেননি মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক।
মুর্শিদাবাদে ভোটার তালিকায় নাম যোগ করা বা নাম বাদের আবেদনের সংখ্যা ৭ লক্ষ ৪৭ হাজার ৩০৫। ৪৮৭টি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। ৪৩৪টি ক্ষেত্রে ট্রাইবুনাল সংশ্লিষ্টের নাম ভোটার তালিকায় যোগ করার পক্ষে রায় দিয়েছে। সে কথা মনে করিয়ে দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী বলেন, “তথ্য জানার অধিকার আইনে যা তথ্য পেয়েছি, তাতে কিছু অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে। মামলা করব।” ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের যাতে সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না করা হয় সে জন্য কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী-সহ আরও কয়েক জন সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন। অধীর বলেন, ‘‘ট্রাইবুনাল গড়া হয়েছে বাদ যাওয়াদের নাম ভোটার তালিকায় তোলার জন্য। দেখলাম, নির্বাচন কমিশন নাম বাদ যাওয়ার জন্য ট্রাইবুনালে আবেদন করেছে! রাজ্যপালকে স্মারকলিপি দেব।’’ তৃণমূলের প্রতীকে জেতা জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, ‘‘কিছু দিন আগেও সবাই সরকারি পরিষেবা পেতেন। এখন কেউ পাচ্ছেন, কেউ পাচ্ছেন না এসআইআরের কারণে। জেলাশাসক, মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি।’’ বিজেপির উত্তর মালদহের সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, “ট্রাইবুনালে আবেদনকারীরা সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন না বলে জানা নেই। বৈধ নাগরিকেরা ট্রাইবুনালে আবেদন করে ভোটার তালিকায় নাম তুলছেন।”