‘গণপতি বাপ্পা মোরিয়া’। জয়ধ্বনি শহর মেদিনীপুর জুড়ে।
পরশু, মঙ্গলবার গণেশ পুজো। শনিবার থেকেই শুরু হয়েছে গণেশ পুজোর উদ্বোধন। এ দিন সন্ধ্যায় শহরের কলেজ স্কোয়ারে একটি পুজোর উদ্বোধন করেছেন বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত। আলোয় সেজেছে মণ্ডপের আশপাশের এলাকা। মণ্ডপে মণ্ডপে গণেশের মূর্তি পৌঁছচ্ছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে। শোভাযাত্রায় থাকছে ঢাক, ঢোলও। মুম্বইয়ের নিজস্ব উৎসবকে এ ভাবেই আপন করে নিচ্ছে মেদিনীপুর। উদ্বোধনপর্ব চলবে কাল, সোমবার পর্যন্ত।
অনেক জায়গায় গণেশ পুজো কাল, সোমবারই হবে। কারণ, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে চতুর্থী তিথি আরম্ভ ২৮ ভাদ্র, সোমবার। চতুর্থী তিথি শেষ ২৯ ভাদ্র, মঙ্গলবার। কয়েক বছর আগেও এই শহরে গণেশ পুজোর তেমন চল ছিল না। বছর কয়েক হল, বড় রাস্তার আশপাশ ছাড়া অলিগলিতেও গণেশ পুজো হচ্ছে। রাজ্যে পালাবদলের পরে এ বার পুজো আরও বেড়েছে। বেশিরভাগ নতুন পুজোর নেপথ্যে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা বিজেপি প্রভাবিত বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। যেমন গান্ধী মূর্তির অদূরে ‘সিদ্ধিবিনায়ক’-এর ব্যানারে এ বারই প্রথম পুজো হচ্ছে। এই পুজো কমিটির সভাপতি সৌরভ গোপ, সম্পাদক মিলন বিষই। মিলনরা বিজেপি প্রভাবিত একাধিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলছেন, ‘‘এমনিতেই ভাদ্র মাসে কোনও পুজো-অনুষ্ঠান না থাকায় সবাই ঝিমিয়ে পড়ত। কয়েক বছর ধরে গোটা রাজ্যে গণেশ পুজো হচ্ছে। তাই আমরাও সিদ্ধিদাতা গণেশের পুজো শুরু করছি।’’ এখানে বিশেষ আলোর শো থাকবে। ফুটে উঠবে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর মুখ। আলোয় তুলে ধরা হতে পারে সরকারি প্রকল্পের কথাও।
এত দিন দুর্গা, কালী, জগদ্ধাত্রীর মতো বড় পুজোর উদ্বোধনে এ-প্রান্ত ও-প্রান্ত ছুটতে হত বিশিষ্টদের। এখন গণেশ পুজোর উদ্বোধনেও সেই ছবি। রবিবার এবং সোমবার, দু’দিনে শহরের অন্তত ১১টি গণেশ পুজোর উদ্বোধন করার কথা মেদিনীপুরের বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর গুছাইতের। সব ঠিক থাকলে আজ, রবিবার ছ’টি পুজোর উদ্বোধন করবেন বিধায়ক। যাবেন রাঙামাটি, ছোটবাজার, খাপ্রেলবাজার, কর্নেললগোলা প্রভৃতি এলাকায়। কাল, সোমবার পাঁচটি পুজোর উদ্বোধন করার কথা তাঁর। শঙ্কর মানছেন, ‘‘এখন শহরে অনেক পুজো হচ্ছে। রবিবার থেকে পুজোর উদ্বোধন শুরু করছি।’’ জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাসও বলেন, ‘‘গণপতির আবাহনে গোটা মেদিনীপুর মেতেছে।’’ কয়েক বছর আগেও সর্বজনীন গণেশ পুজো খুঁজে বেড়াতে হত। এখন কয়েক হাত অন্তর সুদৃশ্য প্যান্ডেল, রকমারি আলো, সিদ্ধিদাতা গণেশের নজরকাড়া মূর্তি। শনিবার থেকেই শহরে সেই উৎসবের আমেজ।