খড়্গপুর স্টেশন থেকে উদ্ধার হল বান্ডিল বান্ডিল ৫০০ টাকার নোট। ঝাড়খণ্ডের টাটানগর থেকে হাওড়ায় নিয়ে আসা হচ্ছিল ওই টাকা। কিন্তু গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছোনোর আগেই তা ধরা পড়ে গেল জিআরপির হাতে। উদ্ধার হল প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। ঘটনায় এক যাত্রীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
খড়্গপুর জিআরপি সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সকালে। সম্বলপুর এক্সপ্রেসে চেপে টাটানগর থেকে হাওড়ার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন রাহুল সোনি। কিন্তু ট্রেন খড়্গপুর স্টেশনে থামলে সেখানে তাঁর গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় কর্তব্যরত জিআরপি কর্মীদের। খড়্গপুরের সাত নম্বর প্ল্যাটফর্মে পিঠে একটি এবং হাতে দু’টি ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সূত্রের খবর, জিআরপি কর্মীরা তাঁর দিকে এগোতেই পালানোর চেষ্টা করেন রাহুল। কিন্তু শেষপর্যন্ত ধরা পড়ে যান।
জিআরপি কর্মীরা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই অসংলগ্ন উত্তর দিতে শুরু করেন রাহুল। তাতে সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। শেষে তাঁর ব্যাগের তল্লাশি শুরু করতেই চোখ কপালে ওঠে প্ল্যাটফর্মে কর্তব্যরত জিআরপি কর্মীদের। ব্যাগের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে ৫০০ টাকার বান্ডিল বান্ডিল নোট। মোট ২৮০ বান্ডিল নোট উদ্ধার হয় তাঁর কাছ থেকে। এই বিপুল পরিমাণ নগদ তাঁর কাছে কোথা থেকে এল, সে বিষয়ে সন্তোষজনক কোনও জবাব দিতে পারেননি রাহুল। তাই তাঁকে আটক করে আয়কর দফতরে খবর দেয় খড়্গপুর জিআরপি। পরে গ্রেফতারও করা হয় তাঁকে।
আরও পড়ুন:
এসআরপি খড়্গপুর জয়ন্ত মুখোপাধ্যায় জানান, এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস কী, তা জানার জন্য ওই যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিআরপি সূত্রে প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, ধৃতের বাড়ি হাওড়ায়। জিজ্ঞাসাবাদ পর্বে তিনি স্বীকার করেছেন, টাটানগর থেকে ওই টাকা হাও়ড়ায় নিয়ে আসছিলেন তিনি। তবে টাটানগরের কার কাছ থেকে কী উদ্দেশ্যে ওই টাকা তিনি নিয়ে আসছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
হাওড়া স্টেশন চত্বরে মাঝেমধ্যেই এমন নগদ টাকা উদ্ধারের খবর মেলে। নগদের উৎস দেখাতে না পেরে ধরাও পড়েন অনেকে। এ বার খড়্গপুর স্টেশন থেকেও উদ্ধার হল এক কোটিরও বেশি নগদ টাকা। ঘটনাচক্রে, এই খবর প্রকাশ্যে আসার কিছু আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষাতেও এক কোটির বেশি টাকা উদ্ধার করেছে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ।