Advertisement
E-Paper

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পে‌লেন ‘প্রহৃত’ বিজেপি বিধায়ক, আঙুল দলেরই জেলা সভাপতির দিকে! গোষ্ঠীকোন্দলে তপ্ত হচ্ছে ডেবরা

তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শোরগোল শুরু হয়েছিল ডেবরায়। স্থানীয় বিধায়কের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের মধ্যে গন্ডগোলের মীমাংসা করতে গিয়ে কর্মীদের একাংশের হাতে প্রহৃত হন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৬:৩৭
Debra MLA

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ডেবরার বিধায়ক শুভাশিস ওম। —ফাইল চিত্র।

‘তোলাবাজি নিয়ে দলীয় দ্বন্দ্ব’ ঠেকাতে গিয়ে ‘প্রহৃত’ বিজেপি বিধায়ক ছাড়়া পেলেন হাসপাতাল থেকে। মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা বিধায়ক শুভাশিস ওম মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। যে স্থানে তাঁকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল, ওই এলাকা থমথমে। অন্য দিকে, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ডেবরা থানায় কোনও অভিযোগপত্র জমা পড়েনি বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

সোমবার সন্ধ্যায় তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শোরগোল শুরু হয়েছিল ডেবরায়। বিধায়কের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের মধ্যে গন্ডগোলের মীমাংসা করতে গিয়ে কর্মীদের একাংশের হাতে প্রহৃত হন তিনি। এর মধ্যে বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময় দাসের মন্তব্যে শাসকদলে গোষ্ঠীকোন্দলের ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি জানান, বিধায়ক জখম হয়েছেন শুনে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন। তখন দিব্যি তিনি হাঁটাচলা করছিলেন। সাংবাদিকেরা যাওয়ার পর ব্যান্ডেজ হয় মাথায়। তোলাবাজি সংক্রান্ত অভিযোগও তিনি পাননি বলে জানিয়েছেন। তোলাবাজি অথবা বিধায়ককে হেনস্থা নিয়ে কোনও পক্ষ পুলিশে অভিযোগ না করলেও মঙ্গলবার বিজেপির জেলা সভাপতি ডুয়া অঞ্চল অফিস, ডেবরা থানা এবং ডেবরা হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। অন্য দিকে, খড়্গপুর সদরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘নিজেদের মধ্যে কোনও গন্ডগোল হয়ে থাকলে দল তা খতিয়ে দেখবে। হিংসা বা মারামারির ঘটনা ঘটলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। নিজেদের মধ্যে কিছু হয়ে থাকলে পার্টি নিশ্চয়ই খোঁজখবর নেবে।’’

এর মধ্যে স্থানীয় সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ১০/২ ডুয়া অঞ্চল অফিসে বিজেপির এক মহিলা কর্মীকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। ওই মহিলা থানায় অভিযোগ জানাতে যান। সেখান থেকে গন্ডগোলের সূত্রপাত। বিজেপির একাংশের দাবি, বিধায়ক এবং তার দলবল ওই মহিলাকে থানায় যেতে বাধা দিয়েছিলেন। তখনই অশান্তি বাধে। একই কথা বলছেন বিজেপি-র ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তন্ময়ও। তাঁর কথায়, ‘‘ওই মহিলা থানায় অভিযোগ জানাতে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। মারধরের পরেও যাতে উনি হাসপাতালে যেতে না পারেন সে জন্য বাধা দেওয়া হয়েছিল।’’ তিনি এ-ও বলেন, ‘‘বিধায়ককে মারধর করা হয়নি। আমি নিশ্চিত, বিধায়কের গায়ে কেউ হাত তোলেনি। অঞ্চল অফিস, থানা চত্বর এবং হাসপাতাল চত্বরের সিসি ক্যামেরা দেখলেই আমার কথা স্পষ্ট হয়ে যাবে। পুলিশ ওই সব ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। আর যদি দেখা যায় যে দলের কোনও কর্মী বিধায়কের গায়ে হাত তুলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’ পুরো বিষয়টি তিনি রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছেন বলে জানান তন্ময়।

অন্য দিকে, ‘প্রহৃত’ বিধায়ক বলেন, ‘‘এক পতাকার তলায় থেকে ওই সব করতে নিষেধ করেছিলাম। তার পরেই কয়েক জন কর্মী মারধর শুরু করে। আমি আটকাতে গেলে আমাকেও মারধর করে।’’ দলের জেলা সভাপতির অনুগামী বলে পরিচিত কয়েক জনকে তাঁকে মারধর করেছে বলে আঙুল তুলেছেন তিনি।

Debra BJP BJP MLA Beaten UP

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy