তোলাবাজি নিয়ে দলীয় কোন্দল থামাতে গিয়ে দলের নেতাকর্মীদের হাতে মার খেলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওম! ডেবরা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। শুধু তিনি একা নন, ওই হাসপাতালে চিকিৎসা হয়েছে আরও কয়েক জন বিজেপিকর্মীর। মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এই ঘটনায় দলের একাংশকেই অভিযুক্ত করেন বিজেপি বিধায়ক। খবর পেয়ে হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময় দাস। যদিও বিধায়কের মাথার ‘ব্যান্ডেজ’ নিয়ে কটাক্ষই করেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর মত, অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আলাদা ভাবে বসে আলোচনা করা যেত। এ ভাবে কোনও কিছু প্রকাশ্যে আনা ঠিক নয়!
শুভাশিসের দাবি, সোমবার সন্ধ্যায় তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় ডেবরায়। তাঁর অভিযোগ, দলীয় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ মেটাতে গিয়ে আক্রান্ত হন তিনি। দলীয় কর্মীদের একাংশের হাতেই হেনস্থার শিকার হতে হয় তাঁকে। শুভাশিসের কথায়, ‘‘অঞ্চলে একটু গন্ডগোল হয়েছিল। কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে কেস করতে চাইছিল।’’ বিষয়টি জানার পর তা মেটাতে গিয়ে দলীয় কর্মীদের হাতে মার খেয়েছেন বলে অভিযোগ শুভাশিসের। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি কর্মীদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম যে, আমরা একই পতাকার তলায় লড়াই করি। নেতৃত্বের মোহে বার বার কর্মীদের বিরুদ্ধে এই কেস করার ব্যাপারটা আমার ভাল লাগছে না।’’ আর তার পরেই তাঁর উপর হামলা হয় বলে অভিযোগ। শুভাশিসের কথায়, ‘‘তোলাবাজির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে এই সব হচ্ছে।’’
অশান্তির খবর পেয়ে ডেবরার হাসপাতালে পৌঁছোন তন্ময়। তিনি দাবি করেন, এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তোলাবাজির অভিযোগ তাঁর কাছে কিছু জমা পড়েনি বলেও দাবি করেন তিনি। তার পরেই তন্ময় বলেন, ‘‘আজকের ঘটনা শোনার পর আমি হাসপাতালে এলাম। এসে দেখলাম সকলে ঠিকঠাকই ছিল। হাঁটাচলা করছিল। তবে সাংবাদিকেরা আসার পর দেখলাম ব্যান্ডেজ হচ্ছে। মেডিক্যালে লাইন পড়ে গিয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
তন্ময় মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। দলের কর্মীরাই ভোটে জিতিয়ে বিধায়ক করেছেন। জেলা সভাপতির কথায়, ‘‘অভ্যন্তরীণ কোনও বিষয় থাকলে সেগুলো নিয়ে আলাদা ভাবে বসা যেত। কিন্তু এ ভাবে প্রকাশ্যে কোনও কিছু না-করাটাই ভাল।’’ বিধায়কের মাথায় ব্যান্ডেজ করা হয়েছে— এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তন্ময় বলেন, ‘‘আমার কাছে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়, কী হয়েছে। ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বললে বুঝতে পারব।’’ তাঁর মতে, মোটামুটি ভালই আছেন বিধায়ক।
গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় ডেবরা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালে হাজির হন ডেবরার এসডিপিও। ঘটনাস্থলে রয়েছে ডেবরা থানার ওসি-সহ পুলিশবাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও পক্ষের তরফেই পুলিশে কোনও অভিযোগ জানানো হয়নি বলে খবর।