Advertisement
E-Paper

টুলু মণ্ডলের মামলায় এ বার গ্রেফতার প্রাক্তন সরকারি আধিকারিক! নাম ছিল পুলিশের জমা দেওয়া চার্জশিটে

গত মাসেই টুলুর মামলায় আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছিল পুলিশ। সেই মামলায় টুলুকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ ছাড়াও অভিযুক্ত হিসেবে ১১ জনের নাম রয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ১৬:১১
One more retired government official arrested for allegedly in Tulu Mondal case

টুলু মণ্ডল মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন সরকারি আধিকারিক রবিউল ইসলাম। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলের মামলায় গ্রেফতার আরও এক সরকারি আধিকারিক। রবিবার গভীর রাতে রামপুরহাট মহকুমা এলাকার মাড়গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয় রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে। তিনি ভূমি এবং ভূমি সংস্কার দফতরে কাজ করতেন। চলতি বছরেই অবসর গ্রহণ করেন। যদিও ধৃত প্রাক্তন ডেপুটি ডিএলআরও দাবি করেন, তাঁকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হচ্ছে। টুলুর মামলায় তাঁর কোনও যোগ নেই।

গত মাসেই টুলুর মামলায় আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছিল পুলিশ। সেই মামলায় টুলুকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ ছাড়াও অভিযুক্ত হিসেবে ১১ জনের নাম রয়েছে। সেই মামলায় একের পর এক সরকারি আধিকারিক ধরা পড়েন। ওই ১১ জনের তালিকায় নাম ছিল রবিউলেরও। ধৃতকে সোমবার সিউড়ি আদালতে হাজির করানো হয়। ১৪ দিনের হেফাজত চেয়ে আবেদন জানায় পুলিশ। তবে বিচারক আট দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। রবিউলের দাবি, ডিসিআর সংক্রান্ত কোনও দায়িত্বে ছিলেন না তিনি।

রবিউলের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কেন রবিউলকে গ্রেফতার করা হবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিজেপির জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ‘‘চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও বিগত সরকার রবিউলকে চুক্তিভিত্তিক ভাবে ওই দফতরেই রেখে দিয়েছিল। বিজেপি সরকার আসার পর পরই ওই সব আধিকারিককে বাদ দেওয়া হয়েছে। ডিসিআর জালিয়াতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত রবিউল। সেই কারণে পুলিশ তাঁকে তদন্তের আওতায় নিয়ে এসেছে।’’

উল্লেখ্য, গত মাসে একই মামলায় মহম্মদবাজার ব্লকের ভূমি এবং ভূমি সংস্কার দফতরের একজন প্রাক্তন আধিকারিক (বিএলআরও) সব্যসাচী মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, ডিসিআর নিয়ে বিএলআরওর যে কাজ ছিল, তা পুরোটাই দেওয়া হয়েছিল টুলুর সংস্থাকে। সেই সুযোগ নিয়ে জাল ডিসিআর ছাপিয়ে চক্র চালাতেন টুলু। সেই কাজে সহয়তা করতেন বেশ কয়েক জন সরকারি আধিকারিক। এই একই মামলায় সেপ্টেম্বরে বিএলআরও দফতরের কোষাধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ সাহা-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছিল বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)।

বীরভূমের মহম্মদবাজার, নলহাটি-সহ একাধিক এলাকায় টুলুর পাথর ও বালির একচেটিয়া কারবার ছিল। অভিযোগ, প্রশাসনের একাংশের মদতে এই নকল ডিসিআর ছাপিয়ে সরকারের শত শত কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছিলেন। টুলুর শ্যালক মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে ২৮ কোটি নগদ টাকা ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের পর থেকেই বেপাত্তা টুলু। এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীদের অনুমান, ইতিমধ্যেই দুবাই বা তুরস্কে পালিয়ে গিয়েছেন টুলু। সম্প্রতি সিউড়ি জেলা আদালতে তাঁকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ তকমা দিয়ে তাঁর বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও আবেদন জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, চার্জশিটে নাম থাকা টুলু ছাড়া সকলকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Tulu Mondal

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy