বাঁকুড়ায় বন দফতরের জমিতে বেআইনি ভাবে রিসর্ট তৈরির অভিযোগ। যাকে কেন্দ্র করে ওই রিসর্টের এক মহিলা কর্মীর সঙ্গে তুমুল বচসায় জড়়িয়ে পড়লেন ছাতনার বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। রিসর্টে পুলিশ নিয়ে গিয়ে তিনি চোটপাট করেন বলে অভিযোগ। মহিলাকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেন পুলিশকে। পাশাপাশি ওই মহিলার বিরুদ্ধেও বিধায়কের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
শুশুনিয়া পাহাড়ের কোলে শিউলিবনা গ্রামে গত সোমবার একটি বিশেষ কাজে গিয়েছিলেন বিধায়ক। সেখান থেকে ফেরার পথে জঙ্গলের মধ্যে তিনি একটি রিসর্ট দেখতে পান। আশপাশে কিছু মদের বোতলও পড়ে ছিল। মদ বিক্রির অনুমতি রয়েছে কি না, জানতে গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, রিসর্টে ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা মহিলা কর্মী তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তাঁদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরে পুলিশ নিয়ে বিধায়ক আবার সেখানে যান। বেআইনি ভাবে বন দফতরের জমিতে রিসর্ট তৈরি করা হয়েছে এবং অনুমতি ছাড়া সেখানে মদ বিক্রি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। মহিলা পাল্টা যুক্তি দিতে গেলে সঙ্গে থাকা পুলিশ আধিকারিককে বলেন, ‘‘একে এখনই গ্রেফতার করুন তো!’’ যদিও মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়নি। পরে পুলিশ তাঁর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলে।
আরও পড়ুন:
সত্যনারায়ণের কথায়, ‘‘বন দফতরের জায়গা দিয়ে ঘেরা থাকায় ওই রিসর্টে যাতায়াতের জন্য তাদের নিজস্ব কোনও জমি নেই। বন দফতরের কাছ থেকে কোনও অনুমতিও নেওয়া হয়নি। রিসর্টে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতেও বেআইনি ভাবে ভাবে বন দফতরের জায়গা ব্যবহার করা হয়েছে। মদ বিক্রির অনুমতি নেই, তবু রিসর্টে দেদার মদ বিক্রি হয়। তৃণমূল আমলে শাসকদলের নেতাদের মদতে রমরমিয়ে এসব চলে আসছিল। এখন তা চলতে দেওয়া যাবে না। বিষয়টি ইতিমধ্যেই বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন ও বন দফতরকে জানানো হয়েছে। প্রশাসন সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।’’
তৃণমূল আমলে অনিয়মের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বাঁকুড়া তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক সুব্রত দরিপা। তিনি জানিয়েছেন, সত্যনারায়ণ ২০২১ সাল থেকে ওই কেন্দ্রের বিধায়ক। এত দিন পর তাঁর ঘুম ভাঙল কেন? অনিয়ম যদি হয়েই থাকে, তবে এর আগে কেন তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেননি বা কোনও পদক্ষেপ করেননি? প্রশ্ন তুলেছেন সুব্রত।
রিসর্টের মালিক কিংশুক মজুমদার বলেন, ‘‘রিসর্টের কোনও কর্মীর ব্যবহার খারাপ লেগে থাকলে আমরা বিধায়কের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি অভিভাবকসম। তাঁর কাছে আমরা পরামর্শ প্রত্যাশা করি। তাঁর এই আচরণে আমাদের সকলের খুব মন খারাপ।’’ বিধায়কের তোলা অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে কিংশুক বলেন, ‘‘স্থানীয় এক আদিবাসী শিক্ষকের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে তাঁর পৈতৃক জমিতে রিসর্টটি তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু পরে আমরা জেনেছি যাতায়াতের রাস্তাটি বন দফতরের। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ওই রাস্তা ব্যবহারের জন্য অনুমতি চেয়ে বন দফতরের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। আমাদের রিসর্টে কোনও মদ বিক্রি করা হয় না। কোনও আবাসিক তা বাইরে থেকে নিয়ে এসে রিসর্টে পান করলে আমরা বাধা দিতে পারি না।’’