আমেরিকার মধ্যবর্তী ভোটে ভরাডুবির পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে সারা বিশ্বে আলোচনা চলছে। কিন্তু ভারতে তাঁকে নিয়ে কে কী বলছেন, ট্রাম্প কি খোঁজ রাখেন? যদি রেখে থাকেন, তবে এতক্ষণে তিনি জেনে থাকবেন, এ দেশে তাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে অন্য এক নাম— জ্ঞানেশ কুমার, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সমাজমাধ্যম খুললেই তাঁদের ‘একসঙ্গে’ দেখা যাচ্ছে। দাবি, ট্রাম্পের জ্ঞানেশকে দরকার!
মধ্যবর্তী ভোটে হেরে যাওয়ার ফলে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বাকি সময়টা তাঁকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি চালিত কংগ্রেসের সঙ্গেই কাটাতে হবে। ভারতীয় সমাজমাধ্যমে একাংশের দাবি, জ্ঞানেশ থাকলে ট্রাম্পকে হয়তো এমন দুর্দিন দেখতে হত না! তিনি ঠিক ‘বাঁচিয়ে’ দিতেন। বস্তুত, আমেরিকার সঙ্গে ভারতের রাজনীতির বর্তমান বিতর্ককে জুড়ে দিয়ে ঠাট্টায় শামিল হয়েছেন অনেকেই। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজীত দিপকে কিংবা পশ্চিমবঙ্গের মমতা তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রেরা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করার এমন সুযোগ হাতছাড়া করেননি।
আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি দিয়ে তৈরি একটি মিম সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন মহুয়া। ছবিতে ট্রাম্পের সঙ্গে মোদীকে হাত মেলাতে দেখা যাচ্ছে এবং মোদী তাঁকে কিছু বলছেন। ওই ছবির উপরে লেখা হয়েছে, ‘জ্ঞানেশের নম্বর পাঠাব কি?’ মহুয়া এই মিমের সঙ্গে লিখেছেন, ‘ফ্রান্ড ডোনাল্ড নিড্স জ্ঞ্যানু’। যার বাংলা তর্জমা করলে হয়, ‘বন্ধুরা, ডোনাল্ডের জ্ঞানুকে চাই’। দিপকে কোনও মিম পোস্ট করেননি। তিনি কেবল একটি লাইন লিখেছেন— ‘‘জ্ঞানেশ কুমার ট্রাম্পের সঙ্গে কখনও এটা হতে দিতেন না।’’
জ্ঞানেশের নামের সঙ্গে অবশ্য ট্রাম্প একেবারে অপরিচিত নন। গত অগস্টে তিনি জ্ঞানেশের নাম উল্লেখ করে সমাজমাধ্যমে নিজে একটি পোস্ট করেছিলেন। ভারতে বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোট দেওয়ার নিয়মের প্রশংসা করে আমেরিকাতেও অনুরূপ আইন চালু করার দাবি জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট। মধ্যবর্তী ভোটে তাঁর ভরাডুবির পর জ্ঞানেশের নাম করে ঠাট্টা করতে গিয়ে অনেকে ট্রাম্পের সেই পোস্টের প্রসঙ্গও টানছেন। ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী ওই খবরের শিরোনাম পোস্ট করে লিখেছেন, ‘‘ভুলে যাবেন না, ট্রাম্প কিন্তু জ্ঞানেশ কুমারের প্রশংসা করেছিলেন। এর থেকেই জ্ঞানেশ সম্বন্ধে অনেক কথা বোঝা যায়।’’ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আবার ট্রাম্পের উদ্দেশে মোদীর বয়ানে লিখেছেন, ‘‘দুঃখিত আমি জ্ঞানেশকে তোমার কাছে পাঠাতে পারিনি বন্ধু! আমি আসলে নিজের দিকটা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। কিন্তু এখন তো এখানকার লোকজন ওকে ওর বাড়ির ভিতরেই আটকে রেখেছে। এখন ও আমাকেও সাহায্য করতে পারছে না আর।’’
ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রশংসা করে কী বলেছিলেন ট্রাম্প? সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের প্রশাসনের এক জনকে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘আমেরিকায় বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া আপনারা ভোট করান কী ভাবে?’ ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি মানুষ ভোট দিয়েছেন। ইমেলে ভোট দিয়েছেন এক শতাংশেরও কম। প্রত্যেক ভোটারের কাছে বৈধ পরিচয়পত্র ছিল। আমাদের অবিলম্বে ‘দ্য সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ চালু করা উচিত।’’
উল্লেখ্য, ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। দাবি, জ্ঞানেশই তার মূল কান্ডারি। বিজেপিকে ভোটে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য তিনিই এসআইআর-কে হাতিয়ার করেছেন এবং বেআইনি ভাবে বহু নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন, অভিযোগ বিরোধীদের। এই সংক্রান্ত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিতর্ক আরও বেড়েছে। জ্ঞানেশের পদত্যাগ ও এসআইআর বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চলছে। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল তা নিয়েই ঠাট্টার রসদ জোগাল।