“ধর্না, অনশনের মতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বা সত্যাগ্রহের মতো কার্যকলাপের কোনও জায়গা নেই সাংবিধানিক গণতন্ত্রে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তো নেই-ই।” এমনটাই পর্যবেক্ষণ কেরল হাই কোর্টের।
কেরল হাই কোর্ট আগেও এক মামলায় এই মন্তব্য করেছিল। ২০১৭ সালের এক মামলার রায়ে আদালত বলেছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি রয়েছে শিক্ষাদানের জন্য। রাজনীতি করার জন্য নয়। মঙ্গলবার একটি মামলায় ফের তা মনে করিয়ে দিয়েছে বিচারপতি অনিল কে নরেন্দ্রন এবং মুরলী কৃষ্ণ এসের ডিভিশন বেঞ্চ। সঙ্গে এ-ও জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কাজকর্মে জড়িত থাকার জন্য পড়ুয়ারা নিলম্বিত বা বহিষ্কৃতও হতে পারেন।
‘লাইভ ল’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেরলমের এর্নাকুলাম জেলার শ্রী শঙ্করাচার্য সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মামলায় এই পর্যবেক্ষণ করেছে আদালত। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ ১৬ জন পড়ুয়াকে নিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষ জানান, তাঁরা সেমেস্টার পরীক্ষায় বসার জন্য উপস্থিতির শর্তও পূরণ করেননি। এ অবস্থায় পরীক্ষায় বসতে চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন নিলম্বিত পড়ুয়ারা।
প্রথমে মামলাটি হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে বিচারাধীন ছিল। একক বেঞ্চ এক অন্তর্বর্তী নির্দেশে ওই পড়ুয়াদের আপাতত পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিয়েছিল। সেই নির্দেশ এ বার খারিজ করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। তাদের পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য কোনও নথিপত্র দেখাতে পারেননি নিলম্বিত পড়ুয়ারা।
আরও পড়ুন:
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিভিশন বেঞ্চ তার পর্যবেক্ষণে জানায়, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী, আদালত এমন কোনও প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ করতে পারে না যাতে কর্তৃপক্ষকে নিজের বিধিবদ্ধ নিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করতে হয়। বিধিবদ্ধ শর্তপূরণ না করেই পড়ুয়াদের পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিলে তা আইনি মাপকাঠি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থির করা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ— উভয়কেই ক্ষুণ্ণ করবে বলে মনে করছে আদালত।
একক বেঞ্চের অন্তর্বর্তী নির্দেশ বাতিল করার সময়ে পূর্বের রায়ের কথা উল্লেখ করে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, “ধর্না, অনশনের মতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সত্যাগ্রহের মতো কার্যকলাপের কোনও জায়গা নেই সাংবিধানিক গণতন্ত্রে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তো একেবারেই নেই। কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ এই ধরনের কাজে যুক্ত থাকলে তাঁর নিলম্বিত বা বহিষ্কৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকবেই।”