অ-আদিবাসীদের আদিবাসী তকমা না দেওয়া, পৃথক সাঁওতালি শিক্ষা বোর্ড গঠন, আদিবাসীদের জল-জমি-জঙ্গলের অধিকার রক্ষা-সহ নানা দাবিতে সোমবার সমাবেশের ডাক দিয়েছিল ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল। সূত্রের মতে, লক্ষাধিক লোকের জমায়েত হয়েছিল সেই সভায়। শুধু তাই নয়, এর দ্বিগুণ লোক ছিলেন রাস্তায়, যাঁরা সভাস্থল পর্যন্ত পৌঁছতেই পারেননি। সমাবেশের জায়গা থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে ইন্দকুড়ির কাছের রাইস মিলের মাঠ থেকে যান নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছিল পুলিশ। ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের জেলা পারগানা রতনলাল হাঁসদা বলেন, “আদিবাসীদের ২৩টি গণসংগঠনের লোকজন হাজির ছিলেন। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, বর্ধমান ছাড়াও, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা থেকে অনেকে এসেছিলেন।”
এই সভায় দেখা যায়নি বিজেপির বিধায়ক, সাংসদকে। প্রশ্ন উঠেছে, আদিবাসী ও কুর্মিদের মত-বিরোধের আবহেই কি সচেতন ভাবে বিজেপি নেতৃত্ব এই সভা এড়িয়ে গিয়েছেন? কারণ, লোকসভা এবং বিধানসভা, দুই ভোটেই আদিবাসী কুর্মি সমাজ বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছে। যদিও পুুরুলিয়ায় সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেছেন, ‘‘ওটা সমাজের সভা।’’ তবে একটি অংশের দাবি, বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের সে ভাবে আমন্ত্রণও জানানো হয়নি। কুর্মি সমাজের দাবি নিয়েও মন্ত্রী কিছু বলতে চাননি।
এই সমাবেশেই যোগ দিতে এসে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল এক অজ্ঞাত পরিচয়ের। সোমবার দুপুরে পুরুলিয়ার মানবাজারের পাথরকাটা ফুটবল ময়দানে সমাবেশস্থলের কাছেই মাথা ঘুরে পড়ে যান বছর পঞ্চাশের ওই ব্যক্তি। তড়িঘড়ি মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে রতনলাল বলেন, “মৃতের পরিচয় জানার চেষ্টা হচ্ছে।” সভা থেকে ফেরার পথে পিকআপ ভ্যান উল্টে প্রায় ৩০ জন আহতও হয়েছেন। বাঁকুড়ার খাতড়ার ধবনি মোড় থেকে সারেঙ্গাগামী রাস্তায় খাতড়ার কেলাতী আশ্রমের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে।