E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

নন্দীগ্রাম-মামলা ফের খোলার আশ্বাসে আশা

গড়বেতায় শনিবারের সভায় সিপিএম নেতাদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সূর্যোদয়’ পর্বের মামলা নতুন করে খোলার হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু।

কেশব মান্না

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১০:১৫
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

দু’দশক হতে চলেছে নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলন পর্বের ‘অপারেশন সূর্যোদয়’ অভিযানের। সে মামলার পুনর্তদন্তের কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাতে এক দিকে যেমন বিচারের আশায় বুক বাঁধছেন জমি-আন্দোলনকারীরা, তেমনই সিপিএম মনে করাচ্ছে, ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ পুলিশের গুলি চালানোর মামলার কথা। তৎকালীন পুলিশ আধিকারিক এন রমেশবাবুর বাড়িতে এ বার দুর্গাপুজোয় সৌজন্য-সাক্ষাতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। তা নিয়ে নিশানা করছেন বিরোধীরা।

২০০৭ সালের ১০ নভেম্বর নন্দীগ্রাম ‘পুনর্দখলে’ সিপিএমের ‘অপারেশন সূর্যোদয়’-এ দু’জনের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। দাবি, আজও নিখোঁজ ১০ জন। অভিযোগ উঠেছিল, আহতদের জঙ্গলমহলে নিয়ে যাওয়ার পথে বালিঘাইয়ের কাছে উদ্ধার করেন স্থানীয়েরা। হাতেনাতে ধরা পড়েন গড়বেতার সিপিএম নেতা তপন ঘোষ ও সুকুর আলি। তৃণমূলের আমলে ঘটনার তদন্ত করে সিআইডি। গ্রেফতার হন প্রাক্তন সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠ, বিধায়ক অমিয় সাহু-সহ কয়েক জন সিপিএম নেতা।

গড়বেতায় শনিবারের সভায় সিপিএম নেতাদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সূর্যোদয়’ পর্বের মামলা নতুন করে খোলার হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। তাতে সুবিচারের আশা দেখছেন কল্পনা মুনিয়ান, হৈমবতী দাসের মতো সে দিনের আক্রান্তেরা। কল্পনার কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর কথা মতো মামলা ফের চালু হলে, দোষীরা নিশ্চিত সাজা পাবে।’’ জমি আন্দোলনের সময় থেকেই শুভেন্দুর সঙ্গী, বর্তমানে তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পালের মতে, ‘‘তৃণমূলের রাজ্য সরকার ঠিক মতো সহযোগিতা করেনি। এখন কেন্দ্র ও রাজ্যের কোনও সংস্থা তদন্ত করলেই দোষীদের শাস্তি হবে।’’

২০০৭-এর ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৪ জন গ্রামবাসী নিহত হন বলে অভিযোগ। যদিও তদন্তে সিবিআই সিপিএম নেতাদের ‘ক্লিনচিট’ দিয়ে ১৬২ জন জমি আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধেই চার্জশিট দেয়। তখন বহু পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকায় সরব হন তৎকালীন তৃণমূল সাংসদ শুভেন্দু। সিবিআইয়ের চার্জশিটকে ‘অসম্পূর্ণ ও পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে দাবি করেন। তবে সে পর্বে ক্ষমতাসীন পুলিশ-কর্তা এন রমেশবাবুর (বর্তমানে সিআইডি ও কারা দফতরের ডিজি) বাড়ির দুর্গাপুজোয় ২১ অক্টোবর যান মুখ্যমন্ত্রী। সমাজমাধ্যমে ছবিও রয়েছে।

মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘যারা আন্দোলনকারীদের উপরে অত্যাচার করেছে, তাদের অনেকেই এখন বিজেপিতে। আবার, অনেকের বাড়ির পুজোয় যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চ কাঁপানো বক্তৃতা ছাড়া, ও সব কিছুই নয়।’’ শুভেন্দুর উদ্দেশে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘‘২০১১ থেকে ২০২০ তৃণমূলে থাকাকালীন আপনার সময় হয়নি! আর সরকারের কাজ, যে কোনও অপরাধের ফাইল খোলা ও শাস্তি দেওয়া। আমরা তাকিয়ে থাকব, আর জি করের দিকে।’’ বিজেপি তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি প্রলয় পাল অবশ্য বলেন, ‘‘কে দোষী, কে নির্দোষ, তা আদালত চূড়ান্ত করবে। মুখ্যমন্ত্রী কোথায় যাবেন, তা নিয়ে বিরোধীদের না ভাবলেও চলবে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Nandigram

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy