E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

আসেনি নির্দেশিকা, পুজোর অনুদানে ধোঁয়াশা

পুজোর জন্য বিগত রাজ্য সরকারে সময়ে পোর্টালে (আসান) অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করা হত। পুজোর জায়গা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থেকে শব্দবিধি— সব কিছুর নির্দিষ্ট নথি পোর্টালে উদ্যোক্তাদের জমা করতে হত।

গোপাল পাত্র

শেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:৪৯
চলছে প্রতিমা বানানোর কাজ। তমলুকের পটুয়া পাড়ায় ।

চলছে প্রতিমা বানানোর কাজ। তমলুকের পটুয়া পাড়ায় । নিজস্ব চিত্র।

দুর্গাপুজোর বাকি মাত্র পাঁচ সপ্তাহ। কিন্তু পুজোর অনুমতি থেকে সরকারি অনুদানের আবেদন কোন নিয়েমে হবে, সেই সংক্রান্ত সরকারি পোর্টাল এখনও না খোলায় ধন্দে উদ্যোক্তরা। তাদের কাছেও এখনও পুজো নিয়ে নির্দেশিকা নেই বলে জানাচ্ছে প্রশাসন। এই আবহে অনুদানের অর্থ পাওয়া না পাওয়ার দোলাচল মধ্যে মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে জেলা জুড়ে।

পুজোর জন্য বিগত রাজ্য সরকারে সময়ে পোর্টালে (আসান) অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করা হত। পুজোর জায়গা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থেকে শব্দবিধি— সব কিছুর নির্দিষ্ট নথি পোর্টালে উদ্যোক্তাদের জমা করতে হত। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল জমির নথি। যে জায়গায় পুজো হবে, তার দাম ও জেল নম্বরের পাশাপাশি, জমির মালিকের নো অবজেকশন নথি উদ্যোক্তাদের জমা করতে হয়। পরে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূমি ও রাজস্ব দফতর জমির নথি যাচাই করে অনুমোদন দিলে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বাকি দফতরগুলির অনুমোদন মেলে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, জমির নথি পাস করাতে উদ্যোক্তাদের একাধিকবার নথি জমা দিতে হয়েছে।

এ দিকে, পুজোর বাকি মাত্র পাঁচ সপ্তাহ। অন্য বছর এই সময়ে পুজো আয়োজকদের বৈধ অনুমতি জন্য অনলাইন পোর্টালে নাম নথিভুক্তের কাজ শুরু হয়ে যেত। তবে নতুন সরকারের আমলে পুরনো পোর্টালটিতে, না কি নতুন পোর্টালে অনলাইনে নাম নথিভুক্ত হবে, সেই নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে। এ ছাড়া, এ বার সরকারি অনুদান দেওয়া হবে কি না, বা দিলেও তা পেতে কী ভাবে আবেদন করতে হবে, সে নিয়ে প্রশ্ন করছেন উদ্যোক্তারা।

জেলার এগরা মহকুমায় সরকারি নথিভুক্ত ২৫০টির বেশি সর্বজনীন দুর্গা পুজো হয়। এ ছাড়া, ঘরোয়া ও অনুমতিহীন আরও অন্তত ৩০০ পুজো হয়। এই সব পুজোর অনেক উদ্যোক্তাই প্রশ্ন করছেন, বিদ্যুতের বিলে কি এ বারে সরকারি ছাড়া থাকবে?

পটাশপুরের টিকরাপাড়া রেনবো অ্যথেলেটিক্স ক্লাবের সম্পাদক স্বপন মাইতি বলছেন, ‘‘পুরনো না নতুন পোর্টালে আবেদন করতে হবে, সেই বিষয়টি অজানা। নতুন কিছু নথিপত্র দিতে হয় কি না, অনুদান কোন নিয়মে মিলবে, তা বুঝতে পারছি না। আশা করি সরকার দ্রুত এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা দেবে।’’ এগরা পুরপ্রধান তথা একটি পুজো আয়োজক হিসাবে জড়িত স্বপন নায়ক বলছেন, ‘‘সরকারি পোর্টাল চালু হলে প্রশাসনিক কাজ এগিয়ে থাকত। দেরি হলে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা যেতে পারে।’’

রাজ্যে সরকার বদলের পরে পুজো কমিটির পদাধিকারী অনেকে এখন বিরোধী দলে পড়েছেন। তাঁদের একাংশের আবার শঙ্কা, ওই পুজোর অনুমতি পেতে বিধিনিষেধের জালে না পড়ে যান তাঁরা। এই সব বিবেচনা করে বিরোধী মতাদর্শের সঙ্গে জড়িত অনেক পুজো উদ্যোক্তরা এবারে ধীরে চলো নীতি নিয়েছেন। যেখানে মহালয়া থেকে অন্য বছর মেলা বা উৎসবের অন্য অনুষ্ঠান শুরু হত, সেখানে পঞ্চমী থেকে মেলা শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

পুজো নিয়ে এমন ধন্দে জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলছেন, ‘‘পুজো সংক্রান্ত শনিবার পর্যন্ত সরকারি নির্দেশিকা আসেনি। রবিবার কিছু নির্দেশ এসেছে কি না খোঁজনিয়ে দেখছি।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Durga Puja festival

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy