রাজ্য এবং জাতীয় সড়কে মত্ত চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা করে পুলিশ। কিন্তু প্রশাসনের একাংশই মেনে নিচ্ছে, মত্ত চালক ধরতে পর্যাপ্ত ব্রেথ অ্যানালাইজ়র (যা দিয়ে চালকের নিঃশ্বাসে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ধরা যায়) পুলিশের হাতে নেই। তাই নজরদারিতেও ফাঁক রয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় আট হাজার ব্রেথ অ্যানালাইজ়র কিনতে চাইছে রাজ্য ট্রাফিক পুলিশ।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে সেই প্রস্তাব ভবানী ভবনে পাঠানোও হয়েছে। ওই ব্রেথ অ্যানালাইজ়র হাতে পেলে তা জেলা ট্রাফিক পুলিশের হাতে দেওয়া হবে। তার পরে রাজ্য এবং জাতীয় সড়কে দিনে এবং রাতে মত্ত চালক ধরতে অভিযান শুরু হবে। প্রসঙ্গত, কলকাতা পুলিশ এলাকায় এই ধরনের নজরদারি তুলনামূলক অনেক বেশি।
রাজ্য পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘বর্তমানে জেলা পুলিশের হাতে মেরেকেটে শ’দুয়েক ব্রেথ অ্যানালাইজ়র আছে। কিন্তু রাজ্যে মোট রাস্তার যা পরিমাণ তাতে আরও ওই যন্ত্র প্রয়োজন।’’ পুলিশ সূত্রের দাবি, রাজ্য পুলিশের হাতে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার জাতীয় সড়ক আছে ও রাজ্য সড়কের পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার। এই পরিমাণ রাস্তায় বিভিন্ন জেলা পুলিশ দুশো যন্ত্র নিয়ে কী ভাবে নিখুঁত নজরদারি করবে, তা নিয়ে প্রশ্নআছে অনেকেরই।
পুলিশের একাংশ অবশ্য জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিকাঠামো এবং লোকবলের অভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তাদের বক্তব্য, পরিকাঠামো এবং লোকবলের অভাবেই বহু জায়গায় যথাযথ ভাবে যান নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে বেপরোয়া গাড়ির জেরে দুর্ঘটনাও ঘটছে।
সূত্রের খবর, রাজ্যের যান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করতে এবং বেপরোয়া গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রায় তিনশোটি স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট রিডিং ক্যামেরা কেনারও প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য ট্রাফিক পুলিশ। সিগন্যাল অমান্য করলেও সংশ্লিষ্ট গাড়িকেও স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরার মাধ্যমে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।