পুজো দেওয়া ও বেড়ানোর জন্য উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকে ৩২ জন তীর্থযাত্রীকে বিশেষ ট্রেনে গুজরাতের সোমনাথ মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা করিয়েছে প্রশাসন। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তীর্থযাত্রীদের ঘোরাতে প্রশাসন যতটা উৎসাহী, জেলার বেহাল রাস্তাঘাট সংস্কার, কর্মসংস্থান, পানীয় জলের সরবরাহ-সহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে ততটা সক্রিয় নয়। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের অবশ্য দাবি, “চলতি আর্থিক বছরে জেলায় প্রায় চারশো কোটির টাকার উন্নয়নের কাজ হবে। অনেক কাজ শুরু হয়েছে।”
রায়গঞ্জ থেকে কলকাতা হয়ে শনিবার দুপুরে কলকাতা স্টেশন থেকে বিশেষ ট্রেনে জেলার ৩২ জন তীর্থযাত্রীকে গুজরাতের উদ্দেশ্যে রওনা করায় প্রশাসন। ওই তীর্থযাত্রীদের মন্দিরে পুজো দেওয়া, ঘোরা, থাকা, খাওয়া-সহ যাতায়াতের সমস্ত খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার।
সিপিএমের উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আনওয়ারুল হকের অভিযোগ, জেলার নয়টি ব্লক ও চারটি পুর এলাকায় বহু রাস্তা বেহাল। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কর্মসংস্থানের রাস্তা খোলেনি। রায়গঞ্জে এখনও থমকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির কাজ। রায়গঞ্জ শহরে যানজট ও বেহাল নিকাশি পরিকাঠামোয় দুর্ভোগ বাড়ছে। জেলা পরিষদ, জেলার বেশিরভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি অচল হয়ে রয়েছে। জেলার বহু গ্রামে ‘জল জীবন মিশন প্রকল্প’-এর পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ। আনওয়ারুল বলেন, “রাজ্যের সাধারণ মানুষ বিজেপিকে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সমস্যার সমাধানের জন্য ক্ষমতায় আনলেও এ সব কাজে প্রশাসনের সক্রিয়তা নেই।” কংগ্রেস নেতা মোহিত সেনগুপ্তের বক্তব্য, “প্রশাসন জেলার সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন ও নাগরিক সমস্যার সমাধান করার থেকে তীর্থভ্রমণ করাতে বেশি সক্রিয়। বিজেপিকে মানুষ তীর্থভ্রমণ ও ধর্মকর্ম করার বদলে উন্নয়ন করার জন্য ভোট দিয়েছেন।” জেলা তৃণমূল সভাপতি (ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির) সন্দীপ বিশ্বাসের বক্তব্য, “ধর্মকে ধর্মের ও উন্নয়নকে উন্নয়নের জায়গায় রাখা হোক।”
রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদ কার্তিকচন্দ্র পালের দাবি, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর একশো কোটি টাকা বরাদ্দে জেলায় রাস্তা, আলো-সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। তিনি বলেন, “আমরা সনাতনী ধর্মকে শ্রদ্ধা করে উন্নয়নে বিশ্বাসী। বাসিন্দারা সঠিক সময়ে বিরোধীদের অপপ্রচারের জবাব দেবেন।”