সরকার আসে, সরকার চলে যায়। কিন্তু কোনও আমলেই ডলোমাইট দূষণ থেকে যেন মুক্তি নেই আলিপুরদুয়ার জেলার একাংশের বাসিন্দাদের। বাতাসে ভেসে বেড়ানো ডলোমাইটের গুঁড়ো থেকে তৈরি হওয়া দূষণের বিষ গ্রাস করেই চলছে গোটা এলাকাকে। বহু বছর ধরে ডলোমাইটের লোডিং-আনলোডিং দলগাঁও স্টেশন থেকে সরিয়ে মুজনাই স্টেশনে স্থানন্তরিত করার দাবি উঠলেও, তার জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজই এখনও করে ওঠা সম্ভব হয়নি বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে।
ভুটান পাহাড় থেকে প্রতিদিনই ডলোমাইট বোঝাই কয়েকশো গাড়ি দলগাঁও স্টেশনে আসে। সেখান থেকে মালবাহী ট্রেনে করে সেই ডলোমাইট চলে যায় দেশের নানা প্রান্তে। কিন্তু এই ডলোমাইট লোডিং-আনলোডিংকে ঘিরে গোটা এলাকার বাতাসে উড়তে থাকা ডলোমাইটের গুঁড়োই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে। অভিযোগ, ডলোমাইট দূষণে এলাকাবাসী শুধু অতিষ্ঠই নন, তাঁদের একটা অংশ ভুগছেন শ্বাসকষ্টের সমস্যাতেও। নষ্ট হচ্ছে প্রচুর গাছ। ডলোমাইটের উপস্থিতিতে চা পাতার গুণমানও নষ্ট হয় বলে অভিযোগ। তার পরেও এই দূষণ প্রতিরোধে এত দিনেও কোনও ব্যবস্থা না হওয়ায় এলাকায় বাড়ছে ক্ষোভ।
চিকিৎসকেদের কথায়, শরীরে ডলোমাইটের ধুলো প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্টজনিত রোগের সৃষ্টি হয়, যা সারে না। একে সিলিকোসিস বলে। দীর্ঘদিন ধুলোর পরিবেশে থাকলে এই রোগ হতে পারে। এতে ফুসফুসে ধুলো জমে যায়। চর্মরোগ, চোখের সমস্যা হতে পারে। বীরপাড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতালের সুপার কৌশিক ঘড়াই বলেন, ‘‘ডলোমাইট লোডিং-আনলোডিং দলগাঁও স্টেশন থেকে সরানো না হলে, এলাকার বাসিন্দাদের, বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের মধ্যে সমস্যা চলতেই থাকবে।’’
ডলোমাইট লোডিং-আনলোডিং দলগাঁও স্টেশন থেকে সরানোর দাবিতে বহুদিন ধরেই বীরপাড়ায় আন্দোলন চলছে। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলে আন্দোলনে নামতে দেখা গিয়েছে বিজেপিকে। তৃণমূল সরকার মুজনাই স্টেশনে জমি দিচ্ছে না বলে রেল এই প্রকল্পটিকে দলগাঁও থেকে সেখানে সরাতে পারছে না বলে আগের সরকারের আমলে অভিযোগ ছিল বিজেপির। কিন্তু বিজেপি রাজ্য ক্ষমতায় আসার পরে বিষয়টি নিয়ে তিন মাসে কতটা উদ্যোগী হয়েছে, সেই প্রশ্নও তুলতে শুরু করেছেন অনেকে। আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গার অবশ্য দাবি, ডলোমাইটের লোডিং-আনলোডিং মুজনাইতে সরিয়ে নিয়ে যেতেজমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই দাবি করেছেন রেলের এক কর্তাও।