১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা প্রকল্প (ভিবি-জি রাম জি) রাজ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হলেও, সব গ্রাম পঞ্চায়েতে তার কাজ শুরু করাই যাচ্ছিল না। কারণ, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে বহু গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান হয় কাজ থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছিলেন, না হয় ছিলেন কার্যত বেপাত্তা। ফলে ‘জি রাম জি’-সহ প্রায় সব ধরনের কাজ থমকে গিয়েছিল পঞ্চায়েত স্তরে। সংশোধিত পঞ্চায়েত আইনে প্রধানদের ক্ষমতা অনেকটা কমেছে। এই পরিস্থিতিতে ‘জি রাম জি’ প্রকল্পের আওতায় গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির অন্তর্ভুক্তি ক্রমশ বাড়ছে। যদিও ৩ অগস্ট পর্যন্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৮৬৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রকল্পটি শুরু হওয়া বাকি। আধিকারিক এবং জেলা প্রশাসনগুলির একাংশ জানাচ্ছেন, এই সমস্যা মিটে গেলেও, বিপুল অর্থের এই প্রকল্পে কাজের পরিকল্পনা যথাযথ ভাবে করা না গেলে শিকড়ের সমস্যা এড়ানো মুশকিল।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে বেশির ভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। অনেক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান (বেশির ভাগই তৃণমূলের টিকিটে জেতা) হয় উদাসীন হয়ে পড়েছিলেন, না হয় কাজ করছিলেন না। ফলে গ্রাম স্তরে বিভিন্ন প্রকল্পের গতি থমকেছিল অনেকটাই। একশো দিনের কাজের প্রকল্পের বদলে গত ১ জুলাই থেকে রাজ্যে চালু হয়েছে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা প্রকল্প, ‘ভিবি-জি রাম জি’। ২৪ জুলাই পর্যন্ত মোট ৩৩৩৯টির মধ্যে এই প্রকল্প চালু হয়েছিল মাত্র ১০৮৫টি পঞ্চায়েতে। সে জায়গায় ৩ অগস্ট পর্যন্ত সরকারি তথ্য বলছে, প্রকল্পটি চালু করা গিয়েছে ২৪৭১টি পঞ্চায়েতে (অবশ্য এত দিনে এই সংখ্যার আরও বদল ঘটার আশা রয়েছে)। প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা অধিবেশনে পঞ্চায়েত আইনের সংশোধন করে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের ক্ষমতা যথেষ্ট কাটছাঁট করেছে রাজ্য। তাতে চেকে সই করার ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রধান বা উপপ্রধান টানা ১৫ দিন অনুপস্থিত থাকলে, জেলাশাসক সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবেন। গ্রাম পঞ্চায়েতের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য পদত্যাগ করলেও প্রশাসক নিয়োগ হবে। গ্রামসভার বৈঠকে সভাপতিত্বের প্রশ্নে প্রধানের উপস্থিতি আর বাধ্যতামূলক নয়। আধিকারিকদের একাংশের মতে, এই নতুন বিধিই চলতি জট কাটাতে সক্ষম হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, নতুন প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক কাজ চেয়েছেন। প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, আগের প্রকল্পের সঙ্গে ‘ভিবি-জি রাম জি’-র ফারাক বিস্তর। কারণ, এই প্রকল্পের তেমন কাজই করানো যাবে, যা জনস্বার্থে স্থায়ী সম্পদ তৈরি করতে সক্ষম। ফলে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির পরিস্থিতি ‘নড়বড়ে’ থেকে গেলে তা কার্যকর করা সমস্যার। এতে প্রকল্পের গতি এবং গুণমান, দুই নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু কাজ নির্বাচনের প্রশ্নে প্রশাসনের শীর্ষ মহলের আরও ইতিবাচক অবস্থান আশা করছেন জেলা-কর্তারা। তাঁদের ব্যাখ্যা, এমনিতেই কাজের দিনের সংখ্যা ১০০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১২৫ দিন। পরিস্থিতি অনুযায়ী, তা আরও ৫০ দিন অতিরিক্ত হতে পারে। এতে এখনই কেন্দ্র বরাদ্দ দিয়েছে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। রাজ্যের অবদান ৫৬৭২ কোটি টাকা। ফলে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের ভেবেচিন্তে কাজের পরিকল্পনা করলে তবেই গ্রামীণ স্তরে বিপুল সম্পদ যেমন তৈরি করবে, তাতে কাজের অঢেল সুযোগও মিলবে। কিন্তু স্থায়ী সম্পদ তৈরির মতো পরিকল্পনার সেই প্রতিফলন এখনও তেমন মেলেনি।
গত মাসের শেষে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের বৈঠকে স্থির হয়েছে, মূল দফতরগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ হবে। এ জন্য দফতরগুলিকেও বার্ষিক পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। সমন্বয় ও নজরদারির লক্ষ্যে জেলাশাসককে চেয়ারম্যান করে জেলাস্তরে ৩৬ জন সদস্যের একটি কমিটি গড়া হয়েছে। ব্লক স্তরে বিডিও-র নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে ১৯ সদস্যের কমিটি।