বিপুল গরমিলের অভিযোগ পেয়ে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রগুলি যে পদ্ধতি বা নথির ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল, তার পুনর্যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। শংসাপত্রের বিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, পুরসভার চেয়ারম্যান এবং পুরনিগমের মেয়রদের ক্ষমতাও খর্ব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের সেই সিদ্ধান্তের পরেই শুক্রবার সরকারি আধিকারিকদের মধ্যে এই দায়িত্ব ভাগ করে দিল নবান্ন। এ দিন নিজের এক্স হ্যান্ডলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই— স্বচ্ছ, দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও নাগরিকবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য করে পৌঁছে দেওয়া।”
সরকারি আদেশনামা অনুযায়ী, প্রতিটি জেলার জেলাশাসক সেই জেলার জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তিকরণ ব্যবস্থার রেজিস্ট্রার হবেন। জেলা স্তরে সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব থাকবে তাঁদের উপর। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ), গ্রামীণ হাসপাতালের সুপার এবং মেডিক্যাল কলেজের প্রধানেরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে জন্ম-মৃত্যু নথিভুক্তিকরণের দায়িত্বে থাকবেন। মহকুমা, জেলা, রাজ্য, রাজ্য স্পেশালিটি হাসপাতালের প্রধানদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিব বা অন্য কোনও আধিকারিককে সেই পঞ্চায়েতের রেজিস্ট্রার করা হবে। সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে পঞ্চায়েতের প্রধানদের দায়িত্ব থাকবে না। প্রতিটি পুরসভায় কোনও আধিকারিককে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেবেন জেলাশাসকেরা। কোনও পুরনিগম এলাকায় সংশ্লিষ্ট পুর কমিশনার সরকারি আধিকারিককেই রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ করবেন। কলকাতা পুরসভার কমিশনার কলকাতা জেলার রেজিস্ট্রার হবেন এবং তিনি আরও কিছু আধিকারিককে এ কাজে নিয়োগ করতে পারবেন শুধুমাত্র কলকাতা পুরসভা এলাকার জন্য। কোনও পুরসভার চেয়ারম্যান, প্রশাসক বা এগ্জিকিউটিভ অফিসারেরা এই দায়িত্বে থাকবেন না।