তারা রাজনৈতিক সংগঠন নয়, সমাজ সংস্কারে কাজ করে— ১৯২৫-এ জন্মলগ্ন থেকেই নিজেদের সম্পর্কে এমনই দাবি করে এসেছেরাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। কিন্তু সংগঠনের শতবর্ষে এসে দেশ জুড়ে নাগরিকদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে আরএসএস। সূত্রের দাবি, এই মর্মে বার্তা প্রচারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বয়ংসেবকদের। এর নেপথ্যে আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা-সহ বিভিন্ন নির্বাচনের নির্দিষ্ট কোনও ভোট-অঙ্ক আছে কি না, তা নিয়ে চর্চা রয়েছে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মধ্যে। যদিও সেই চর্চা উড়িয়ে দিয়ে সঙ্ঘ সূত্রে দাবি, বিষয়টিকে নাগরিক দায়িত্বের অঙ্গ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবতের বঙ্গ সফরে ইতিমধ্যেই গোটা দেশের মতো এখানেও বিভিন্ন আলোচনায় স্বয়ংসেবকদের ‘স্ব-আধার’ (স্বতন্ত্র), ‘সামাজিক সমরসতা’ (ভ্রাতৃত্ব), ‘কুটুম্ব প্রবোধন’ (আত্মীয়তা), ‘পর্যাবরণ’ (পরিবেশ) এবং নাগরিক কর্তব্য, এই পাঁচটি বিষয়ে জোর দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এই নাগরিক কর্তব্যেরই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ভোটাধিকার প্রয়োগ। আজ, রবিবার বর্ধমানের তালিতে সাই স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ভাগবতের যে সমাবেশ করার কথা, সেখানেও বিষয়গুলি উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন আরএসএস নেতৃত্বের একাংশ। শতবর্ষে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে এক সঙ্ঘ-নেতার ব্যাখ্যা, “এখন অনেকেই বার্ষিকী পালন করেন। এটা ভারতীয় সংস্কৃতি নয়। আমরা তাই শতবর্ষে দাঁড়িয়ে উদ্যাপন নয়, ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি। তারই অংশ সমাজ সংস্কারে কাজ।”
সঙ্ঘের এমন আহ্বানের নেপথ্যে বিজেপির ভোটপ্রাপ্তির বিষয়টি রয়েছে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মধ্যে। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে দেশে রেকর্ড ৬৭% মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। ২০১৪-র ভোটে জেতা বিজেপি ২০১৯-এ রেকর্ড আসন নিয়ে ফের ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে দেশে গত বারের তুলনায় প্রায় ১.৩% ভোট কম পড়ে। বিজেপিও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। পাশাপাশি, এই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ অন্যেরা বার বার দাবি করেছেন, আর ৪% ভোট পক্ষে এলেই পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল হতে পারে। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরে, শুভেন্দু বলেছিলেন, সেখানে গত বারের বিধানসভা ভোটের তুলনায় ৫% বেশি ভোট পড়েছিল। তারই সুফলপেয়েছে বিজেপি।
যদিও এক সঙ্ঘ-নেতার দাবি, “বিভিন্ন নির্বাচনে ৬০-৭০% ভোট পড়ে। আমরা দেখেছি, অনেক সময়েই রাষ্ট্রবাদীদের কম পড়ছে। কিন্তু যাঁদের ভাবনা অন্য রকম, তাঁরা সবাই ভোট দিচ্ছেন! তাই এই পরিকল্পনা। বিজেপি বা বিধানসভা ভোটের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।”