E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ব্লক অফিসে ঝামেলায় দুই মহিলা-সহ গ্রেফতার তিন

রাজ্যের অন্যত্র অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না মেলায় বিক্ষোভ হয়েছে তুলনায় কম। উপভোক্তাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন শাসক দলের নেতা-কর্মীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৫ অগস্ট ২০২৬ ০৮:২৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না মেলার ক্ষোভে শুক্রবার নদিয়ার করিমপুর ২ ব্লক অফিসে তালা দেওয়া, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, ধস্তাধস্তির অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগে দুই মহিলা-সহ তিন জনকে ধরেছে কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ। সোমবার তেহট্ট আদালত ধৃতদের ১৪ দিন জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে। এ দিনই অন্নপূর্ণা যোজনায় ভাতা পাওয়ার সমস্যা প্রসঙ্গে জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার এগ্‌জ়িকিউটিভ অফিসারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার দিন জানতে গেলে, ডিওয়াইএফআই কর্মীদের উপরে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। বিজেপি অভিযোগ মানেনি।

রাজ্যের অন্যত্র অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না মেলায় বিক্ষোভ হয়েছে তুলনায় কম। উপভোক্তাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন শাসক দলের নেতা-কর্মীরা। নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মালতী রাভা রায়ের দাবি, “যাতে যোগ্য কেউ বাদ না পড়েন, সে দিকে লক্ষ্য রেখে সরকার-প্রশাসন কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তা নিয়ে বলেছেন। তার পরেও উসকে দেওয়া হচ্ছিল। মানুষ তা বুঝতে পারছেন।”

করিমপুর ২ ব্লকে হামলা প্রসঙ্গে কৃষ্ণনগর পুলিশ-জেলার সুপার অতুল ভি বলেন, “ওখানে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, তালা মারা ও ধস্তাধস্তির অভিযোগে এক পুরুষ ও দু’জন মহিলাকে ধরা হয়েছে। তবে প্রধান অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া।” পুলিশ জানায়, ধৃতেরা হলেন মুরুটিয়া দাসপাড়ার রিনা হালদার, মুরুটিয়া সিঙাডাঙার মমতা বেগম ও বানিয়াকাঁদির হানিফ শেখ। জিয়াগঞ্জে অভিযোগ, পুরসভায় স্মারকলিপি দেওয়ার দিন জানতে যাওয়ায় মারধর করা হয় ডিওয়াইএফআই নেতা সৌরিশ পাণ্ডেকে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন এক পুরকর্মী। পুলিশে অভিযোগ হয়েছে। বিজেপির জেলা যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক শুভেন্দু দাসের দাবি, “বিজেপি জড়িত নয়।”

এ দিন দক্ষিণ দিনাজপুর বালুরঘাট, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, দুই ২৪ পরগনার কিছু জায়গায় বিক্ষোভ হয়। অন্যত্র বিক্ষোভ কমেছে। প্রশাসন সূত্রের দাবি, আবেদনকারীদের অফলাইনে নতুন করে আবেদন এবং অনলাইনে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। তাতে বিক্ষোভ কমেছে। এ দিন হাওড়ার উলুবেড়িয়া ১ ব্লক অফিসে বহু মহিলার আধার কার্ডের ফটোকপি জমা দেন দু’টি পঞ্চায়েতের বিজেপি নেতারা। তীর্থেন্দু ঘোড়ুই নামে এক বিজেপি নেতা বলেন, “ওই মহিলারা ব্লক অফিসে বিক্ষোভ দেখাতে চেয়েছিলেন। তাতে সরকারের বদনাম হত। কেন ওই মহিলারা অন্নপূর্ণার টাকা পাননি বা আবেদনপত্রের বর্তমান কী অবস্থা, তা জানাবেন বলে বিডিও আশ্বাস দিয়েছেন।”

তবে সরকারের বদনাম করলে অন্নপূর্ণা যোজনা, আবাসের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার হুঁশিয়ারি-ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়ানোয় বিতর্কে পড়েছেন বিজেপির যুব মোর্চার উত্তর মালদহের সভাপতি তথা জেলা পরিষদ সদস্য তারাশঙ্কর রায়। আবার ‘হয় সবাইকে অন্নপূর্ণা দিন, না হলে এক বারে এই প্রকল্পকে বাদ করে দিন’—এই মর্মে রায়গঞ্জের কমলাবাড়ি-২ পঞ্চায়েতের বিজেপির উপপ্রধান দুলাল সরকারের একটি ভিডিয়ো-বার্তাও ছড়িয়েছে। দুটি ক্ষেত্রেই মত ওই নেতাদের ‘ব্যক্তিগত’ বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতারা।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Annapurna Bhandar Scheme

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy