ভুয়ো জনজাতি শংসাপত্র বাতিল করতে তদন্ত কমিশন গঠন-সহ বিভিন্ন দাবিতে এবং রাজ্যে আদিবাসীদের উপরে অত্যাচারের প্রতিবাদে ‘ইউনাইটেড ফোরাম অব অল আদিবাসী অর্গানাইজেশনস’-এর ডাকে পথে নামলেন আদিবাসীদের একাংশ। প্রায় ৫০টি আদিবাসী সংগঠনের এই মঞ্চের নেতৃত্ব বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস, দু’পক্ষকেই তীব্র আক্রমণ করেছেন। পাশাপাশি, প্রয়োজনে আগামী বিধানসভা ভোটে ‘নো ভোট টু তৃণমূল’ স্লোগানও তুলবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশন থেকে মিছিল করে এসে আন্দোলনকারীরা ধর্মতলায় জড়ো হন। সেখানে সমাবেশে বক্তৃতা করেছেন রামদাস কিস্কু, তপন সর্দার, পারশাল মুর্মু, দুলাল মুদি, রবীন সোরেন, বুবুন মু্ড়া, সদানন্দ মু্ড়া, মদন মুর্মু প্রমুখ। তাঁদের অভিযোগ, আদিবাসী নন, এমন অনেককে রাজ্য সরকার জনজাতি শংসাপত্র দিয়েছে। ফলে, সংরক্ষণের সুবিধা থেকে আদিবাসী সমাজের অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি, ২০০৬-এর বনাঞ্চলে জমির অধিকার আইন কার্যকর করার জন্যও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। এই সূত্রেই ২০২৩-এর বন সংরক্ষণ আইন বাতিলের জন্যও সরব হয়েছেন তাঁরা। নেতৃত্বের অভিযোগ, এই আইন আসলে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করে বৃহৎ পুঁজির স্বার্থে করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন এবং রাজ্য সরকারের কাছে দাবিপত্রও দিয়েছেন তাঁরা। আদিবাসীদের রায়ত ও পাট্টা জমি দখল বন্ধ, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-জীবিকার অধিকার নিশ্চিত করার মতো বিভিন্ন দাবি তোলা হয়েছে। তৃণমূল যদিও পক্ষান্তরে আদিবাসী-কল্যাণে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা বলেছে।