পরামর্শ দিয়েছিলেন অমিত শাহ। সেইমতো রাজ্যের নতুন ভাষানীতি ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়েছিলেন, রাজ্যে সরকারি কাজে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করা হবে। এ বার বিজ্ঞপ্তিও জারি করে দিল নবান্ন। গোটা বিষয়টির সার্বিক বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল।
গত জুলাইয়ে কলকাতা সফরে এসে শুভেন্দুকে বাংলা ভাষার মর্যাদা এবং ব্যবহার বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই সময়ে মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠিও দেন তিনি। পরে বিধানসভায় বক্তৃতার সময়ে রাজ্য সরকারের নতুন ভাষানীতি প্রণয়নের কথা ঘোষণা করেন শুভেন্দু। জানান, ১ সেপ্টেম্বর থেকে তা কার্যকর হবে। সেইমতো গত ৩১ অগস্ট একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রাজ্যের কর্মিবর্গ এবং প্রশাসনিক সংস্কার বিভাগ। শনিবার ওই বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ্যে আসে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্য প্রশাসনে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক ভাবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যে সব সরকারি অফিস সরাসরি জনপরিষেবার সঙ্গে যুক্ত, সেখানে সাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ, আবেদন গ্রহণ, উত্তর দেওয়া, বিজ্ঞপ্তি, নির্দেশিকা, পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্য জনমুখী কার্যকলাপে যতটা সম্ভব বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের অভিযোগগ্রহণ, তার নিষ্পত্তি এবং এই সংক্রান্ত যোগাযোগ বাংলা ভাষায় করার কথা বলা হয়েছে। পুলিশকেও অভিযোগগ্রহণ, তার নিষ্পত্তি এবং তদন্ত সংক্রান্ত যোগাযোগের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ প্রযোজ্য বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বাংলা ভাষাকে প্রধান প্রশাসনিক ভাষা হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এই কর্মসূচির সার্বিক বাস্তবায়ন, তদারকি এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। তাঁর সভাপতিত্বে রাজ্যস্তরের একটি পরিচালন সমিতি গঠনের কথা বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। ওই কমিটি বিভিন্ন বিভাগ, প্রতিষ্ঠান, ভাষাবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী মতামত নেবে। পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগে বিভাগীয় বাস্তবায়ন সমিতি এবং প্রতিটি জেলায় জেলা বাস্তবায়ন সমিতি গঠনের কথাও বলা হয়েছে। এই কমিটিগুলি নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার, অনুবাদের কাজ পর্যবেক্ষণ এবং পর্যালোচনা করবে।
পাশাপাশি গোটা বিষয়টির বাস্তবায়নের জন্য কোথায় কী করণীয়, কোথায় কিসের ঘাটতি রয়েছে, তা নিয়ে প্রতিটি বিভাগকে সমীক্ষা করতে বলেছে নবান্ন। তিন মাসের মধ্যে ওই সমীক্ষা শেষ করতে বলা হয়েছে। সেখানে বাংলা ভাষায় দক্ষ কর্মী ও আধিকারিকের সংখ্যা কেমন রয়েছে, কোথাও কোনও ঘাটতি রয়েছে কি না, বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন রয়েছে কি না— সে সবও ওই সমীক্ষায় খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।