Advertisement
E-Paper

একই সম্পত্তির দাবিদার বিজেপির দুই বিধায়ক! প্রস্তাবিত বিমানবন্দরের কাছে জমি নিয়ে ‘অসীম-যুদ্ধ’, নদিয়ায় শোরগোল

নদিয়ার ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন ৩২ শতক জমির মধ্যে ১১ শতক সম্পত্তি নিয়ে বিধায়কদের মধ্যে অশান্তি। রানাঘাট দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক অসীমকুমার বিশ্বাস এবং হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার, দু’জনেই একই জমির দাবিদার।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৩৪
Kalyani Land Dispute Case

একই জমি নিয়ে সংঘাতে বিজেপির দুই বিধায়ক! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তাঁরা দু’জনেই অসীম। দু’জনেই বিজেপির বিধায়ক। দু’জনেরই দাবি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাল। কিন্তু জমি নিয়ে বিজেপির দুই অসীমের বিবাদে শোরগোল নদিয়ার রাজনৈতিক মহলে। দুই বিধায়কের বক্তব্য মোটের পর এক— ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’।

নদিয়ার চাকদহ থানার শিমুরালির নরপতিপাড়া মৌজায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন ৩২ শতক জমির মধ্যে ১১ শতক সম্পত্তি নিয়ে বিধায়কদের মধ্যে অশান্তি। রানাঘাট দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক অসীমকুমার বিশ্বাস এবং হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার, দু’জনেই একই জমির দাবিদার।

কলকাতা বিমানবন্দরের ভিড় কমাতে দ্বিতীয় বিকল্প হিসাবে কল্যাণী বিমানবন্দর তৈরির ঘোষণা করেছে সরকার। প্রস্তাবিত গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরের অদূরেই রয়েছে বিতর্কিত ১১ শতক জায়গা। রানাঘাট দক্ষিণের বিধায়ক অসীমের দাবি, ২০২১ সালেই তিনি জমির রেকর্ড এবং চেন ডিড (জমির ধারাবাহিক মালিকানা পরিবর্তনের ঐতিহাসিক নথির ক্রম) দেখেই ওই সম্পত্তি কিনেছিলেন। তাঁর কাছে যাবতীয় কাগজপত্র রয়েছে। তাঁর সাফ কথা, ‘‘আমার নথি জাল না ওঁর নথি জাল, সেটা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে।’’

হরিণঘাটার বিধায়ক অসীমও নাছোড়। তিনি ১১ শতক জায়গার ‘ইতিহাস’ শুনিয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘১৯৮৯ সালে আবুল হোসেন তরফদারের কাছে জমিটি বিক্রি করেন যমুনা রানি দত্ত। আবুল হোসেন ওই জমিতে চাষ করতেন এবং জমির কিছু অংশ বর্গা হিসেবেও রেকর্ড ছিল। আবুল হোসেন তরফদার অশোক বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তিকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দেন। কিন্তু তার কিছু দিনের মধ্যে আবুল হোসেনের মৃত্যু হওয়ায় সেই পাওয়ারনামা বাতিল হয়ে যায়।’’ হরিণঘাটার বিধায়ক জানিয়েছেন, আবুলের সন্তানরা ওই জমির মালিকানা নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি বিএলআরও-র কাছে গিয়েছিলেন। সব কিছু দেখে গত ২৫ অগস্ট কল্যাণীতে রেজিস্ট্রি করে তিনি মোট ৩২ শতক জমি কিনেছেন।

কিন্তু রেজিস্ট্রির দিনই জমি নিয়ে প্রথম বার গন্ডগোল দেখা যায়। হরিণঘাটার বিধায়কের ইঙ্গিত, রানাঘাট দক্ষিণের বিধায়কের অনুগত কয়েক জন জমি রেজিস্ট্রিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। অসীম সরকারের কথায়, “আমি যতক্ষণ ওই ১১ শতক জমি লিখে না দিচ্ছি, ততক্ষণ উনি (অসীমকুমার বিশ্বাস) ওই জমির মালিক হতে পারবেন না।” পাল্টা রানাঘাট দক্ষিণের বিধায়ক জানান, ২০২১ সালেই যখন তিনি জমি কিনেছেন, তখন সব জেনেও কেন সেখানে অসীম সরকার জমি কিনতে গেলেন?

এখন ওই বিতর্কিত জমির উপর দুই বিধায়কের নামেই আলাদা দুটি বোর্ড ঝুলছে। বিমানবন্দর তৈরির ঘোষণার পর ওই স্থানে জমির দাম ঊর্ধ্বমুখী। এই প্রেক্ষিতে দুই বিজেপি বিধায়কের জমির লড়াই নিয়ে চর্চা জেলার রাজনৈতিক মহলেও।

(এই প্রতিবেদন প্রথম বার প্রকাশের সময় রানাঘাট (উত্তর-পূর্ব)-এর বিধায়ক অসীম বিশ্বাসের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবেদনে রানাঘাট দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক অসীমকুমার বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত এই ত্রুটির জন্য আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। ত্রুটি গোচরে আসার পরেই তা সংশোধন করা হয়েছে।)

BJP MLA Land Dispute Kalyani Nadia

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy